লাইফস্টাইল

সম্পর্কে অবিশ্বাস ও প্রতারণা: পরকীয়ার নেপথ্যে অজানা কারণ

  প্রতিনিধি ১৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:২০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

সম্পর্কে অবিশ্বাস ও প্রতারণা: পরকীয়ার নেপথ্যে অজানা কারণ

সম্পর্ক চিরকালই এক জটিল বিষয়। যখন থেকে বিয়ের প্রথা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই মানুষের জীবনে এসেছে পরকীয়া। এই সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত সম্পর্কের নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে নানা মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এমনকি আর্থিক কারণ। শারীরিক আকর্ষণ থেকে শুরু করে মানসিক চাহিদা—সবকিছুই পরকীয়ার জন্ম দিতে পারে।

পরকীয়া নিয়ে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনফিডেলিটি রিকভারি ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এই গবেষণা অনুযায়ী, মানুষ শুধু শারীরিক সম্পর্কের জন্য নয়, বরং ভালোবাসা, মনোযোগ, বা নতুন কোনো অভিজ্ঞতার খোঁজেও পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কিনসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো ড. জাস্টিন লেমিলার তার গবেষণামূলক বই ‘টেল মি হোয়াট ইউ ওয়ান্ট’-এ লিখেছেন, সুখী দাম্পত্য জীবনেও পরকীয়া হতে পারে। অনেক সময় একঘেয়েমি কাটাতে এবং নতুন বৈচিত্র্য ও উত্তেজনার খোঁজে মানুষ সম্পর্কের বাইরে পা বাড়াতে পারে।

 

পরকীয়ার প্রধান কারণগুলো

 

বিভিন্ন গবেষণায় পরকীয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে, যা আমাদের এই সম্পর্কের জটিলতা বুঝতে সাহায্য করে:

  • দাম্পত্য সম্পর্কে অসন্তুষ্টি: বোঝাপড়ার অভাব, অবহেলা, শারীরিক বা মানসিক চাহিদা পূরণ না হওয়া ইত্যাদি কারণে মানুষ নতুন সঙ্গীর খোঁজে বের হয়।
  • রোমাঞ্চ ও নতুনত্বের খোঁজ: অনেক সময় সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটাতে মানুষ নতুন উত্তেজনা অনুভব করতে চায়। এই ধরনের সম্পর্ক সাধারণত তিন মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
  • মানসিক স্বস্তি ও মুক্তি: জীবনের দায়িত্ব আর দুশ্চিন্তার চাপে ক্লান্ত মানুষ অনেক সময় দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে গিয়ে মানসিক আশ্রয় খুঁজে নেয়।
  • অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সহজলভ্যতা: ডেটিং অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো পরকীয়াকে সহজলভ্য করে তুলেছে। পরিচয় গোপন রেখেও মানুষ এসব সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।
  • কর্মস্থলের ঘনিষ্ঠতা: কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর কারণে সহকর্মীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, যা অনেক সময় পরকীয়ায় রূপ নেয়।
  • নতুন প্রেমে পড়ার স্বভাব: কিছু মানুষের স্বভাবই এমন যে তারা বারবার প্রেমে পড়ে। বর্তমান সঙ্গী যত ভালোই হোক না কেন, তারা নতুন সম্পর্কে জড়াতে আগ্রহী থাকে।
  • মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা: পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি) বা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক সমস্যায় ভুগলে অনেকে স্থায়ী সম্পর্কে স্থির থাকতে পারেন না।
  • স্বার্থ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা: সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক সুবিধার জন্যও অনেকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
  • অল্প বয়সে বিয়ে: যারা ২০ বছরের আগেই বিয়ে করে, তাদের মধ্যে পরবর্তীতে পরকীয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
  • শৈশবের ট্রমা: শৈশবে মা-বাবার মধ্যে অশান্তি দেখলে অনেক সময় সন্তানেরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে পরকীয়ার আশ্রয় নেয়।
  • প্রতিশোধপরায়ণতা: অতীতে প্রতারিত হলে প্রতিশোধের মনোভাব থেকে অনেকে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
  • অভ্যাসগত প্রতারণা: গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একবার প্রতারণা করেছে, তাদের বারবার প্রতারণা করার সম্ভাবনা প্রবল।

গবেষকদের মতে, যেকোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক মনোযোগ আর প্রতিশ্রুতি। যখন একটি সম্পর্কে এই উপাদানগুলোর অভাব হয়, তখনই অবিশ্বাস আর প্রতারণার জন্ম নেয়। তাই, সম্পর্ককে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখতে হলে এই বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি।