প্রতিনিধি ৩১ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের দাবি-দাওয়ার জেরে একের পর এক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১২৩টি সংগঠন মোট ১ হাজার ৬০৪ বার সড়ক অবরোধ করেছে, যা দেশের প্রধান শহরগুলোতে তীব্র যানজট এবং ব্যাপক জনভোগান্তির সৃষ্টি করেছে। আজ রোববার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্থান বা মাঠ থাকলেও অনেক সংগঠন তা ব্যবহার না করে সরাসরি রাস্তাঘাট দখল করে নিচ্ছে। যখন রাস্তার একটি অংশ অবরোধ হয়ে যায়, তখন এর প্রভাব পুরো শহরের ওপর পড়ে এবং যানজট অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম দেশের স্বাভাবিক জনজীবনকে ব্যাহত করছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য ছিল, তা এখন ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সরকার এই ধরনের অপচেষ্টা মোকাবিলা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “তাদের একটি অংশ এখনও রয়ে গেছে, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকার সম্মিলিতভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য নির্বাচন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শুরু হতে যাচ্ছে। এটি একটি বড় আকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সেদিনই সবার সামনে তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণের দিন আমরা একটি বড় প্রচার কার্যক্রম চালাব এবং সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে পারেন।”
এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো, আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একদিকে যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে সচেষ্ট, তেমনি একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। সামগ্রিকভাবে, তার মন্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে, যেখানে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।