প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:০৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল এবং সমাজকর্মী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা এবার ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করে নিজের নামের সঙ্গে নতুন এক পরিচয় যুক্ত করেছেন। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচ বছরের কঠোর অধ্যবসায়ের পর তিনি সফলভাবে তার পিএইচডি থিসিস সম্পন্ন করেছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সুখবরটি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন মিথিলা। এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি ভীষণ আবেগাপ্লুত এবং গর্বের সঙ্গে জানাতে চাই যে, জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে আমার পিএইচডি থিসিস ডিফেন্ড করেছি। এই মুহূর্তটি আমার পাঁচ বছরের এক দীর্ঘ যাত্রার শেষ।”
মিথিলার এই অর্জন কেবল একটি শিক্ষাগত সাফল্য নয়, বরং এটি তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কারণ, এই পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পুরোটা সময় তিনি একইসঙ্গে তার অভিনয় জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পড়াশোনা—সবকিছুই দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন।
তিনি নিজেই এই অভিজ্ঞতাকে ‘আলপথে যাত্রা’ বা ‘একসঙ্গে একাধিক পথে হাঁটা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার কথায়, “এটা ছিল আমার জন্য ‘আলপথে যাত্রা’। মানে একদিকে ফুলটাইম ক্যারিয়ার, মাঝে মাঝে অভিনয় এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলানো। অন্যদিকে এই ডিগ্রির জন্য লড়াই করা। এই অভিজ্ঞতা আমাকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে, সহনশীলতা আর মানসিক দৃঢ়তার।”
এই দীর্ঘ এবং কঠিন পথচলায় যারা তাকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি মিথিলা। তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞ। যাদের সহায়তা এই যাত্রাকে সম্ভব করে তুলেছে।”
মিথিলার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। তার এই অর্জন আমাদের দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে, যারা পড়াশোনা এবং পেশাগত জীবনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চান। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, তারকাখ্যাতি বা ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা কোনো কিছুই শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না।
এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাফিয়াত রশিদ মিথিলার নামের আগে ‘ড.’ উপাধি যোগ করা হবে। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সম্মান অর্জন করেছেন। এই অর্জন তার বহুমুখী প্রতিভার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একজন সফল অভিনেত্রী, মডেল, সমাজকর্মী এবং এবার একজন ডক্টরেট—মিথিলার এই সাফল্যের গল্প আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।