প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৫১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ক্রিকেট মাঠে দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির আরামদায়ক চাকরি ছেড়ে ফিরে এসেছিলেন নিজ দেশের ক্রিকেটের হাল ধরতে। তার এই ফিরে আসা ব্যক্তিগত কোনো গৌরব নয়, বরং দেশের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই। বিসিবি সভাপতির পদকে তিনি কখনো নিজের ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখেননি, বরং দেখেছেন দেশের ক্রিকেটকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে অক্টোবরে। এরপরই শুরু হবে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়া। তবে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হওয়ার পথে হাঁটতে আগ্রহী নন বুলবুল। তার স্পষ্ট কথা, তিনি ভোটে প্রার্থী হয়ে লড়বেন না। কিন্তু যদি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তাকে মনোনীত করে এবং বোর্ডের পরিচালকরা তার ওপর আস্থা রাখেন, তবেই তিনি এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে রাজি আছেন। অন্যথায়, তার এই পথচলা এখানেই থেমে যাবে।
গতকাল চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বুলবুলের কণ্ঠে শোনা যায় এক প্রখর বাস্তববোধ, যা একইসাথে তার অদম্য স্পৃহারও পরিচয় দেয়। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখানে কোনো ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নন, ক্রিকেটটাই আসল। কে এলো, কে গেল—সেটা আলোচনার বিষয় নয়। মাঠে ক্রিকেট চলবে, ক্রিকেটাররা খেলবে, কর্মকর্তারা কাজ করবে—সেটাই যথেষ্ট। আমি শুধু চাই ক্রিকেট যেন সঠিক পথে এগোয়। আমি কেবল সামনের দিকে তাকাই, দেখি কী হয়!’
আইসিসির আরামদায়ক পদ ছেড়ে এসে বিসিবির হাল ধরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভবিষ্যৎ এখন সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত পদ-পদবির মোহে নেই, তিনি শুধু চান দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাক। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে হঠাৎ করে এসেছি এবং একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। আমার সবকিছুই ছিল স্থায়ী, কিন্তু দেশের জন্য সবকিছু ছেড়ে এসেছি। যতদিন কাজ করা সম্ভব, আমি করেছি। পরবর্তীতে কী হবে, সেটার ওপর আমার কোনো হাত নেই।’
বুলবুল আরও জানান, ‘আমি ও ফাহিম ভাই এনএসসির কাউন্সিলর। এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। প্রথমে এনএসসিকে আমাকে কাউন্সিলর করতে হবে। তারপর একটি বোর্ড আসবে এবং সেই বোর্ডের পরিচালকরা আমাকে সভাপতি বানাবেন। এটা অনেক দূরের কথা। এখন আমার যে কাজ, আমি শুধু সেখানেই মনোযোগ দিচ্ছি।’ অর্থাৎ, সরকারের পক্ষ থেকে যদি সবুজ সংকেত মেলে, তাহলে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালনে বুলবুলের কোনো আপত্তি নেই।
গতকাল চট্টগ্রামে একটি আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে বিসিবি সভাপতি স্কুল ক্রিকেটে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা বলেন। তার মতে, আজকের স্কুল মাঠগুলোতেই লুকিয়ে আছে আগামীর তামিম, সাকিব, মুশফিক কিংবা রিয়াদ। তার পরিকল্পনায় স্কুল ক্রিকেট শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে শেকড় থেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার একটি প্রকল্প। তিনি বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট অনেক দিন ধরেই হচ্ছে। কিন্তু এবার আমরা চাই নতুন উদ্যোগে, নতুনভাবে এটি করতে। যাতে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, সেখান থেকেই জন্ম নেয় ক্রিকেটভক্ত এবং নতুন প্রতিভা।’ বুলবুলের ভাবনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা, প্রতিটি উপজেলাকে ক্রিকেট পরিবার হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে শুধু খেলোয়াড় নয়, তৈরি হবে ফিজিও, ট্রেনার, সাপোর্ট স্টাফসহ ক্রিকেটের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু।