আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: দুর্বল অবকাঠামো ও বেপরোয়া চালনাই মূল কারণ?

  প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৪৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

আফগানিস্তানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: দুর্বল অবকাঠামো ও বেপরোয়া চালনাই মূল কারণ?

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো। রাজধানী কাবুল থেকে দক্ষিণের কান্দাহারগামী মহাসড়কে একটি বাস উল্টে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন ক্বানি নিশ্চিত করেছেন।

কর্তৃপক্ষের মতে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল চালকের অবহেলা। তবে আফগানিস্তানের প্রেক্ষাপটে এমন দুর্ঘটনা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের ফলে দেশটির সড়ক ও মহাসড়কের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং যথাযথ ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাবও এই ধরনের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এই দুটি বিষয়, অর্থাৎ দুর্বল অবকাঠামো এবং চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, মিলে আফগানিস্তানের সড়কগুলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার পশ্চিমের হেরাত প্রদেশে ঘটে যাওয়া আরেক দুর্ঘটনায় ৭৮ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১২ জনের বেশি শিশু ছিল। ইরান থেকে ফেরা অভিবাসী শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাস মোটরসাইকেল এবং একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে মধ্য আফগানিস্তানের এক মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ও একটি ট্রাকের সঙ্গে দুটি বাসের সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছিলেন।

এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনাগুলো আফগানিস্তানের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। ভাঙাচোরা রাস্তা, ট্র্যাফিক আইন প্রয়োগের অভাব এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার ঘাটতি – এই তিনটি প্রধান সমস্যা মোকাবেলা করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা যায়। হতাহতদের পরিবারগুলো একদিকে যেমন স্বজন হারানোর শোকে পাথর, অন্যদিকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে সরকারের উচিত শুধু দায় চাপিয়ে না দিয়ে, বরং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। রাস্তা মেরামতের পাশাপাশি, কঠোর ট্র্যাফিক আইন প্রণয়ন ও তা প্রয়োগ, এবং চালকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে, আরও অনেক তাজা প্রাণ অকালে ঝরে যাবে, যার দায়ভার কেউ এড়াতে পারবে না।