প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ৮:৫২ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
মঙ্গলবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। তিন দফা দাবি আদায়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত আটটার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আজ বুধবার সকালে আবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হবে।
কেন এই আন্দোলন?
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মূল দাবিগুলো হলো:
শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তাঁরা তাঁদের দাবিগুলো জানিয়ে আসছিলেন, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সহসভাপতি শাকিল আহমেদ বলেন, “সরকার আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।” একই সংগঠনের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে সরকার। আমরা সারাদিন সচিবালয়ে থাকলেও কেউ আমাদের সঙ্গে বসতে রাজি হননি।”
লংমার্চ ও আজকের পরিকল্পনা
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজ সকালে তাঁরা লংমার্চ করে আবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ করবেন। তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাহবাগ থেকে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করবেন। এই পদযাত্রা এবং অবরোধের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকার যেন তাঁদের তিন দফা দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে বুয়েট ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবরোধ শুরু করেন। সন্ধ্যা নাগাদ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবাদ সম্মেলনে শাকিল আহমেদ আরও একটি নতুন দাবি তুলে ধরেন: রংপুরে এক প্রকৌশলীকে আটকে রেখে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাই হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
জনগণের দুর্ভোগ
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অফিস শেষে ঘরমুখী যাত্রীরা আটকে পড়েন তীব্র যানজটে। বিকেল তিনটার পর থেকে শাহবাগ মোড় দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মৎস্য ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কাঁটাবন মোড়সহ আশপাশের সব রাস্তায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
তাসমিয়া রহিম নামে এক নারী তাঁর অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে যাত্রাবাড়ী থেকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। তিনি মৎস্য ভবন মোড়ে এসে জানতে পারেন যে রাস্তা বন্ধ। উপায় না দেখে সন্তানকে কোলে নিয়ে হেঁটে হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন।
আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। শাহবাগ মোড় আবারও অবরোধের ঘোষণায় রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।