প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:১০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
চলতি বছর আলুর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন দেশের কৃষকরা। তাদের এই দুশ্চিন্তা দূর করতে সরকার এবার দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আলুর উৎপাদকরা যাতে তাদের ফসলের উপযুক্ত মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে কোল্ড স্টোরেজ গেট পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর ন্যূনতম দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু সরাসরি ক্রয় করে হিমাগারে সংরক্ষণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে আলুর দর অনেক কমে যাওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে কৃষি সচিবের নেতৃত্বে একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সচিবরা সদস্য হিসেবে ছিলেন। বাজার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে এই কমিটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো ফলন হলেও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা লাভবান হতে পারেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা হলেও কমবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
এই উদ্যোগটি কেবল বর্তমান মৌসুমের জন্যই নয়, আগামীতে আলু চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্যও বিশেষ প্রণোদনার কথা ভাবা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সরকার কর্তৃক হিমাগারে সংরক্ষিত এই ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে বাজারে ছাড়া হবে। এতে করে মৌসুম শেষে আলুর সরবরাহ কমে গেলে দাম বৃদ্ধি পাবে না, যার ফলে ভোক্তা এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন।
এই পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক। এর মাধ্যমে শুধু আলুর দাম স্থিতিশীল হবে না, বরং কৃষকদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। সরকার কৃষকদের পাশে আছে, এই বার্তাটি তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করবে। আশা করা যায়, সরকারের এই ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ দেশের কৃষি উৎপাদন এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।