জাতীয়

ইউনূসের বৈঠকে বদল, বিএনপির সাথে আলোচনার সময় পিছিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়

  প্রতিনিধি ৩১ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩৫ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

ইউনূসের বৈঠকে বদল, বিএনপির সাথে আলোচনার সময় পিছিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রোববার, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে পৃথক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রেস সচিবের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে বিএনপির সঙ্গে বেলা ৩টায়, এরপর বিকাল সাড়ে ৪টায় জামায়াতের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল। তবে আজকের এক বার্তায় এই ক্রম ও সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, সবার আগে নয়, বরং সবার শেষে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় বেলা ৩টা থেকে পরিবর্তন করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার এই উদ্যোগকে দেশের রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে আলাদাভাবে বৈঠকে ডাকার কারণ হলো, প্রতিটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান এবং দাবি-দাওয়া ভিন্ন। তাই পৃথক বৈঠকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রস্তাবনাগুলো সরাসরি শুনতে চান প্রধান উপদেষ্টা।

এই বৈঠকগুলোতে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা, এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধান উপদেষ্টা আশা করছেন, এই আলোচনাগুলো দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকটি বিকাল সাড়ে ৪টায় অপরিবর্তিত আছে। এনসিপির সঙ্গে বৈঠকের সময়ও সন্ধ্যা ৬টায় নির্দিষ্ট রয়েছে। শুধুমাত্র বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের সময় পরিবর্তন হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের সময়সূচি পরিবর্তন করা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সম্ভবত, প্রধান উপদেষ্টা অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে তাদের মতামত ও প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে একটি সামগ্রিক ধারণা পেতে চান, যা তিনি বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করতে পারেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই সময় পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা এই বৈঠকে তাদের মূল দাবি, বিশেষ করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জোর দেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার এই বৈঠকগুলো শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে একটি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। দেশের সাধারণ মানুষও তাকিয়ে আছে এই বৈঠকগুলোর দিকে, কারণ তারা একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়।

এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। প্রধান বিরোধী দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার এই উদ্যোগ একটি স্বস্তির বাতাস নিয়ে আসতে পারে। এটি কেবল আলোচনার একটি সুযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দেশের ভবিষ্যৎ এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য এই বৈঠকগুলোর ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।