জাতীয়

ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ধর্মঘট: ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৪৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক ধর্মঘট: 'কমপ্লিট শাটডাউন' ঘোষণা

প্রকৌশল শিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। নিজেদের অধিকার আদায়ের দাবিতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেশের প্রকৌশল খাতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) কাউন্সিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। আন্দোলনের এই প্ল্যাটফর্মের সভাপতি মো. ওয়ালি উল্লাহ বলেন, “আমাদের আন্দোলন তিন ধাপে চলছিল। গতকাল ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়ায় এবং পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শিত ভিডিওতে একটি গুরুতর বৈষম্যের চিত্র উঠে আসে, যা প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সেখানে দেখানো হয়, সরকারি চাকরিতে পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে পদগুলো শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা এই বৈষম্যকে অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর দ্রুত অবসান দাবি করেছেন।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের মূল দাবিগুলো হলো:

  • পদ সংরক্ষণে বৈষম্য দূরীকরণ: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সরকারি চাকরিতে ন্যায্য পদ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
  • প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: পূর্বে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
  • চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি: প্রকৌশলীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি জনদুর্ভোগ এড়িয়ে পরিচালনা করা হবে। এই লক্ষ্যে তারা চলতি সপ্তাহে বিভাগীয় সম্মেলন এবং পরবর্তী সপ্তাহে জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছেন।

এই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকার যদি দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের মেধাবী প্রকৌশলীরা যদি নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তাহলে তা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে।

শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সরকার তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে একটি কার্যকর সমাধান দেবে। এই আন্দোলন শুধু কিছু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অধিকারের জন্য নয়, বরং দেশের প্রকৌশল খাতের সুষ্ঠু ও বৈষম্যহীন উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়।