আন্তর্জাতিক

ইলন মাস্কের স্টারশিপের সফল উড্ডয়ন: মঙ্গল অভিযানের পথে এক বিশাল সাফল্য

  প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৪৫ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

ইলন মাস্কের স্টারশিপের সফল উড্ডয়ন: মঙ্গল অভিযানের পথে এক বিশাল সাফল্য

মহাকাশ গবেষণা ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করা ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্স এবার এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। বহুবার ব্যর্থতার পর অবশেষে তাদের শক্তিশালী মহাকাশযান স্টারশিপের দশম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু সফল উড্ডয়নই নয়, এই মিশনে প্রথমবারের মতো মহাকাশে স্টারলিংক স্যাটেলাইট স্থাপন করে স্পেসএক্স তাদের ক্ষমতা আরেকবার প্রমাণ করেছে। এই সাফল্য ইলন মাস্কের মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের স্বপ্ন এবং নাসার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ টেক্সাসের স্টারবেস ঘাঁটি থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে (২৩৩০ জিএমটি) ৪০৩ ফুট (১২৩ মিটার) উঁচু এই বিশাল রকেটটি আকাশে উড়ে যায়। এই উড্ডয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্টারশিপের নতুন করে তৈরি তাপ ঢালের (হিট শিল্ড টাইলস) স্থায়িত্ব পরীক্ষা করা। এছাড়া, স্যাটেলাইট স্থাপনের প্রযুক্তি এবং আগের ব্যর্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে রকেটে করা শতাধিক উন্নয়নও পরীক্ষা করা হয়। এই মিশন থেকে স্পেসএক্স তাদের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই রকেটের প্রথম ধাপ, সুপার হেভি বুস্টার, পরিকল্পনা অনুযায়ী আলাদা হয়ে যায়। এটি এবার স্টারবেস টাওয়ারে না নেমে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে, যা ছিল এই পরীক্ষার একটি অংশ। অন্যদিকে, স্টারশিপের উপরের অংশটি মহাকাশে প্রবেশ করে ভারত মহাসাগরের দিকে এগিয়ে যায়। বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় সৃষ্ট তীব্র তাপ সহ্য করে রকেটটির সমুদ্রে অবতরণ ছিল এই অভিযানের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ। আগের পরীক্ষামূলক উড্ডয়নগুলোতে ঠিক এই ধাপেই বারবার ব্যর্থতা এসেছিল। কিন্তু এবার স্টারশিপ সফলভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে।

এই সফলতা স্পেসএক্সের জন্য শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত জয় নয়, এটি মানবজাতির মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। স্টারশিপকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি সম্পূর্ণভাবে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হয়। এর ফলে মহাকাশযাত্রার খরচ অনেক কমে যাবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে বা মঙ্গল গ্রহে নিয়মিতভাবে মানুষ ও কার্গো পাঠানোর পথ খুলে দেবে। ইলন মাস্কের এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যদি সফল হয়, তবে আমরা খুব শীঘ্রই দেখতে পাবো যে মহাকাশ শুধুমাত্র নভোচারীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও একটি ভ্রমণ বা বসবাসের স্থান হয়ে উঠছে।

এই সফল মিশন প্রমাণ করে যে, বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও স্পেসএক্স তাদের লক্ষ্য থেকে এক চুলও সরে যায়নি। বরং, প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। স্টারশিপের এই সফল উড্ডয়ন শুধু ইলন মাস্কের স্বপ্নকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়নি, এটি মহাকাশ গবেষণা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এটি শুধু একটি রকেট নয়, এটি মানবজাতির এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন।