আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল কর্তৃক গাজা সিটিতে হামলার ঘোষণা এবং যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা

  প্রতিনিধি ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১:২৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েল কর্তৃক গাজা সিটিতে হামলার ঘোষণা এবং যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেখানে তাদের প্রাথমিক অভিযান শুরু করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে গাজায় চলমান সংঘাত নতুন ও আরও তীব্র পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

আইডিএফ-এর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি একটি অনলাইন পোস্টে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা অপেক্ষা করছি না। গাজা সিটিতে হামলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়েছে এবং আমরা উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসরায়েল গাজা সিটির ভেতরে এবং বাইরে সামরিক কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়াতে বদ্ধপরিকর।

এক মাস আগে ইসরায়েল মানবিক সহায়তা বিতরণের সুবিধার্থে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটি কৌশলগত বিরতি ঘোষণা করেছিল। কিন্তু নতুন এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই বিরতি বাতিল করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে স্থানীয় সামরিক বিরতি কার্যকর হবে না। এখন থেকে শহর একটি বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র।” এই পরিবর্তন ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই অবরুদ্ধ গাজার মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।

গত আগস্টের শুরু থেকেই গাজা সিটির বিভিন্ন অংশে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। শহরের উপকণ্ঠে ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ৬০ হাজার নতুন রিজার্ভ সেনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই বিশাল সামরিক সমাবেশ ইসরায়েলের চূড়ান্ত আক্রমণের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ ও স্থল থেকে অব্যাহত বোমাবর্ষণের কারণে বহু মানুষ গাজার পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই গণ-স্থানান্তর মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।

গাজা সিটিতে ইসরায়েলের এই নতুন হামলা সেখানকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বেসামরিক অবকাঠামো, হাসপাতাল এবং স্কুলগুলোর ওপর হামলার আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই উভয় পক্ষকে যুদ্ধনীতি মেনে চলার এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে, সংঘাতের তীব্রতা দেখে মনে হচ্ছে, সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে। এই যুদ্ধ ঘোষণার ফলে গাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

এই আক্রমণ কেবল সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গাজায় ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে, কারণ এতে অগণিত বেসামরিক মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে ইসরায়েল। গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, তার পরিণতি কী হয়, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, সংঘাতের এই নতুন পর্যায়টি ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আরও দুঃখ-দুর্দশা বয়ে আনবে।