প্রতিনিধি ১৪ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:০৫ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশ্বাসে অবশেষে আন্দোলন স্থগিত করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। সরকার নির্ধারিত বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের দাবিতে গত বুধবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তারা। শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শর্ত হলো, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।
দাবি ও আশ্বাসের প্রেক্ষাপট
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়মানুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে তারা যে স্বল্প পরিমাণ ভাতা পান, তা বর্তমান বাজার মূল্যের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এছাড়া, শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া সহজ ও সর্বজনীন করার দাবিও তাদের দীর্ঘদিনের। এসব দাবি নিয়ে তারা বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তেমন কোনো ফল পাননি। এ কারণেই সর্বশেষ বুধবার তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।
সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান এবং প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তাদের ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকেই তাদের দাবি পূরণের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ফিরে এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক। যদি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তারা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। এর অংশ হিসেবে, তারা আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে সারাদেশের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষকদের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রমাণ করে যে, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই আশ্বাস কতটুকু বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের দাবি পূরণ করা না হয়, তাহলে শিক্ষা খাতে আবারও এক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। শিক্ষক নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাবে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শিক্ষকরা কেবল নিজেদের অধিকারই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নের একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন।