অর্থনীতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখে সোনালী ভবিষ্যৎ: মুনাফায় নতুন রেকর্ড!

  প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:২৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখে সোনালী ভবিষ্যৎ: মুনাফায় নতুন রেকর্ড!

বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক দুর্দান্ত আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থবছরে প্রায় ২২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল অঙ্কের মুনাফা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাই প্রকাশ করে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাবও তুলে ধরে। এই রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে ট্রেজারি বিল-বন্ড ও সরকারকে দেওয়া ঋণের সুদ বাবদ আয়।

 

মুনাফার উৎস এবং বৃদ্ধি

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক হিসাব থেকে জানা যায়, ট্রেজারি বিল-বন্ড ও সরকারকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ বাবদ আয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। খরচ এবং কর বাদ দেওয়ার পর এই নিট মুনাফার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ১০ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই মুনাফা আরও বেড়ে হয়েছে ২২হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা একটি নতুন মাইলফলক।

 

সরকারি কোষাগারে জমা এবং কর্মচারী বোনাস

 

মঙ্গলবার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৪৪৩তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় এই আর্থিক হিসাব অনুমোদন করা হয়। সভা শেষে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, এবারের মুনাফার পুরো অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। গত অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছিল ১০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এবার সেই পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত অর্থ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ব্যয় হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

একই সভায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ মুনাফার স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মৌলিক বেতনের ছয় গুণ ইনসেনটিভ বোনাস প্রদান করা হবে। এই বোনাস কর্মীদের কর্মোদ্দীপনা বাড়াতে এবং তাদের কাজের প্রতি আরও উৎসাহিত করতে সাহায্য করবে। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাতেই নয়, বরং তার কর্মীদেরকেও তাদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য পুরস্কৃত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই মুনাফা বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক পথে রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থিতিশীল রয়েছে এবং আর্থিক খাত সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

এই রেকর্ড মুনাফা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করতে সাহায্য করবে। সরকারি কোষাগারে জমা হওয়া এই অর্থ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। বলা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাফল্য দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।