প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:২৩ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
নয়াদিল্লি: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন চলছিল।
‘২+২ ইন্টারসেশনাল ডায়ালগ’ কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু অংশীদারত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ১০ বছর মেয়াদি নতুন একটি কাঠামো স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনা প্রমাণ করে যে, উভয় দেশই তাদের কৌশলগত সম্পর্ককে কেবল বাণিজ্যিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং প্রতিরক্ষা খাতেও একে শক্তিশালী করতে আগ্রহী।
কোয়াড জোট ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বৈঠকে কোয়াড (Quadrilateral Security Dialogue) জোটের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে দুই পক্ষই তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। এই দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করে। এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জোটের গুরুত্ব অপরিসীম।
অর্থনৈতিক ও মানবিক সম্পর্ক বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। দুই দেশের কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠে কীভাবে নতুন করে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি ও গভীরতা ক্রমাগতভাবে বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যাতে তা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উপকারে আসে। এই বৈঠকটি কেবল বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পারস্পরিক সহযোগিতা, বিশ্বাস এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্পর্ককে আরও বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।