প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:৫৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
আমরা সবাই জানি অতিরিক্ত খাবার বা বারবার নাস্তা করলে ওজন বাড়ে। কিন্তু এমনটা হলে তো মুশকিল! যারা খেতে ভালোবাসেন, তাদের পক্ষে বারবার নাস্তা না করে থাকা কঠিন। আবার তাদের জন্যও এই অভ্যাস ভালো না, যাদের ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে। তবে ভালো খবর হলো, আপনি চাইলে নাস্তা খেয়েও ওজন কমাতে পারেন!
শুনে অবাক লাগছে? হ্যাঁ, এটা সত্যি। কিছু বিশেষ ধরনের খাবার আছে, যেগুলো পেট ভরে খেলেও ওজন বাড়ায় না। এমনই একটি খাবার হলো পপকর্ন। অনেকেই মুভি দেখতে দেখতে পপকর্ন খেতে ভালোবাসেন, তবে জানেন কি, এই পপকর্ন হতে পারে আপনার ওজন কমানোর নতুন সঙ্গী?
অন্যান্য নাস্তার চেয়ে পপকর্নে ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম, যা ওজন কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি, এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় হজম ক্ষমতাও বাড়ে।
বিখ্যাত পুষ্টিবিদ লুক কুটিনহো বলেন, পপকর্ন একটি অত্যন্ত স্মার্ট খাবার। যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পপকর্ন রাখতে পারেন। তবে তিনি একটি জরুরি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন— পপকর্ন কীভাবে খাচ্ছেন, তা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বাজারে যেসব মিষ্টি বা মসলাদার পপকর্ন পাওয়া যায়, সেগুলো ওজন কমানোর বদলে উল্টো বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ওজন কমাতে চাইলে নুন ও মাখন ছাড়া ক্লাসিক পপকর্ন বেছে নিন। এই পপকর্নগুলো সাধারণত গরম হাওয়ায় ভুট্টার দানা ভাপিয়ে তৈরি করা হয়।
পুষ্টিবিদ লুক কুটিনহো ক্লাসিক পপকর্নের ওজন কমানোর রহস্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, এক কাপ ক্লাসিক পপকর্নে ক্যালরি থাকে মাত্র ৩০-৩৫ কিলো ক্যালরি। এটি খুবই কম। এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এটি হজমের জন্য খুব উপকারী। এ ছাড়াও, এটি পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখে, তাই বারবার ক্ষুধা লাগে না বা এটা-সেটা খাওয়ার ইচ্ছেও কমে যায়। এই অভ্যাস ওজন কমানোর জন্য খুবই জরুরি। যেহেতু এটি ভুট্টার দানা থেকে তৈরি, তাই পপকর্নে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন এবং খনিজ, যা হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী।
স্বাদের জন্য আপনি পপকর্নে সামান্য বিট লবণ, গোলমরিচ বা আপনার পছন্দের স্বাস্থ্যকর মসলা মিশিয়ে নিতে পারেন। দৈনিক ২-৩ কাপ পপকর্ন খেতে পারেন। তবে খুব বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো, কারণ বেশি খেলে ক্লাসিক পপকর্নও ওজন বাড়াতে পারে।
তবে যারা পেট ফাঁপা, গ্যাস বা আইবিএসের সমস্যায় ভোগেন, তাদের পপকর্ন এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, এতে থাকা ফাইবার তাদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
মনে রাখবেন, পপকর্ন ভাজার সময় অতিরিক্ত লবণ, মাখন, তেল বা চকলেট মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কারণ এই উপাদানগুলো মেশালে পপকর্নের স্বাস্থ্যগুণ কমে যায় এবং ওজন কমার বদলে বাড়তে শুরু করে। তাই যদি সত্যিই ওজন কমাতে চান, তাহলে পপকর্নকে তার প্রাকৃতিক রূপেই গ্রহণ করুন!
কেমন লাগলো পপকর্নের এই উপকারী দিকগুলো জেনে? আপনি কি আগে পপকর্ন দিয়ে ওজন কমানোর কথা ভেবেছিলেন?