খেলাধুলা

খেলা ছাড়িয়ে মানবাধিকার: জুয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উসমান খাজার যুদ্ধ

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:২৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

খেলা ছাড়িয়ে মানবাধিকার: জুয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উসমান খাজার যুদ্ধ

ক্রিকেট মাঠে তাঁর দৃঢ়তা এবং ব্যাটের ঝলকানি সবাই দেখেছে, কিন্তু মাঠের বাইরেও উসমান খাজার কণ্ঠস্বর তেমনই সোচ্চার। এর আগে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়িয়ে কিংবা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জার্সি না ঢাকার পক্ষে কথা বলে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার অস্ট্রেলিয়ার এই ওপেনার নতুন এক যুদ্ধ শুরু করেছেন—খেলাধুলায় জুয়ার সর্বব্যাপী প্রচারের বিরুদ্ধে।

খাজা মনে করেন, খেলাধুলার সঙ্গে জুয়ার এই অবিরাম সম্পর্ক দেশের তরুণ প্রজন্মকে এক ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই তিনি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে জুয়ার বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসে কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই পরিবর্তনের ডাক দেন।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্সের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছেন খাজা। তাঁর এই উদ্যোগকে অর্থমন্ত্রী চালমার্স সাধুবাদ জানিয়েছেন। খাজার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করে চালমার্স তাঁকে একজন ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, তাঁর এই অবদানকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

 

‘ধূমপানের মতোই বন্ধ করতে হবে’

 

৮৪ টেস্ট খেলা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চার সঙ্গে জুয়ার যে সম্পর্ক গড়ে উঠছে, তা ভয়ংকর ও বিপজ্জনক। আমরা জুয়াকে নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাভাবিক বিষয় বানিয়ে ফেলছি।” তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন যে, ন্যাশনাল রাগবি লিগ (এনআরএল) ম্যাচ দেখতে বসলে খেলার আগেই জুয়ার অডস (বাজির হার) চোখে পড়ে। এমনকি, গ্রেড ক্রিকেটে ১৬ বছর বয়সী তরুণদেরও বাজির অ্যাকাউন্ট খুলতে দেখা যায়। অনেক তরুণ মনে করে, বাজি না ধরলে খেলা দেখার কোনো উত্তেজনা নেই।

খাজার কাছে যখন জানতে চাওয়া হয়, তিনি সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা করেন, তখন তাঁর উত্তর ছিল খুব সহজ ও স্পষ্ট। তিনি বলেন, “খেলার মাঠ থেকে জুয়া নিষিদ্ধ করতে হবে, খুবই সরল বিষয়। একেবারে ধূমপানের মতোই বন্ধ করে দিতে হবে।” খাজা মনে করেন, খেলোয়াড় এবং খেলাধুলার সঙ্গে জুয়ার সম্পর্ক যদি বারবার দেখানো হয়, তাহলে এটি একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। নতুন প্রজন্মকে এই আসক্তি থেকে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।

 

শুধু ক্রিকেট নয়, সর্বক্ষেত্রে সোচ্চার

 

খাজার এই আন্দোলন শুধু ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে নয়, বরং পুরো অস্ট্রেলিয়ার খেলাধুলাকে জুয়ার আগ্রাসন থেকে মুক্ত করার এক বৃহত্তর প্রয়াস। তাঁর এই উদ্যোগ এক মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসেছে। এর আগেও তিনি মানবাধিকারের বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হয়েছেন।

একই ধরনের আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে খাজা, সাবেক রাগবি তারকা ডেভিড পোকক, লেবার এমপি এড হুসিক এবং কিছু স্বতন্ত্র এমপির সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তারা সবাই ইসরায়েলের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে এবং গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক লোকজনের মৃত্যুর কারণে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।

খেলাধুলার বাইরেও খাজার এই ধারাবাহিক মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তিনি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং সমাজ সচেতন মানুষ। তাঁর এই কণ্ঠস্বর নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়ায় খেলাধুলায় জুয়ার প্রচারের বিরুদ্ধে এক নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।