প্রতিনিধি ৩১ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মোস্তাক আহমেদ আজ রোববার সকালে সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে নুরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিচ্ছেন।
ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, নুরের চারটি প্রধান শারীরিক সমস্যা ছিল, যা চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে: নাকের হাড় ভেঙে যাওয়া, চোয়ালের হাড় ভাঙা, চোখে গুরুতর ইনজুরি এবং মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণ। এই সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এটি তার দ্রুত আরোগ্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
নুরুল হকের উন্নত চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড সার্বক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছে। ডাক্তারদের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা নুরের শারীরিক অবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হয়েছে।
ডা. মোস্তাক আহমেদ আরও জানান, শুরুতে নুরের শরীরে লবণের পরিমাণ কম ছিল, যা এখন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে এসেছে। তিনি এখন মুখে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ করতে পারছেন এবং প্রস্রাবের জন্য ব্যবহৃত ক্যাথেটারও খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার সব শারীরিক প্যারামিটার স্বাভাবিক রয়েছে, যা তার স্বাস্থ্যের উন্নতির সুস্পষ্ট প্রমাণ।
ডা. মোস্তাক বলেন, গত শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নুরুল হককে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তখন তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তার নাকের ভেতরে গজ ব্যান্ডেজ লাগানো ছিল। আঘাতের গভীরতা বিবেচনা করে তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা অপরিহার্য ছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিপেটায় নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর নুরকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন।