আন্তর্জাতিক

গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত ২৮

  প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:৪৯ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় একদিনে নিহত ৮৬, খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিতে নিহত ২৮

 

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এক দিনে কমপক্ষে ৮৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার রাতের দিকে এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন ইসরায়েলি বাহিনীর নিক্ষিপ্ত গোলায় প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি ২৮ জন নিহত হয়েছেন খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সেনাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে। এই ঘটনা গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সন্ধানে বের হওয়া মানুষজনও যে নিরাপদ নয়, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সোমবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৬ জনের মরদেহ এবং ৪৯২ জন আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও জনবলের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যাচ্ছেন।

এদিকে গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে অবস্থিত নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক এবং চারজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনের বেসামরিক মানুষের জীবন চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সোমবারের পর পর্যন্ত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭৪৪ জনে। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি।

গাজায় চলমান এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোও দুর্লভ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, সেই আহ্বানে তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। এই সংঘাতের সমাপ্তি কবে হবে এবং সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনে শান্তি কবে ফিরবে, তা এখনো অনিশ্চিত।