প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:২১ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শত শত প্রার্থী এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু প্রতীক্ষার পর চাকরি পাওয়ার আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে এনটিআরসিএ-এর ভুলের কারণে। কেউ জেনারেল ক্যাটাগরির হয়ে সুপারিশ পেয়েছেন কারিগরি পদে, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেয়েছেন যেখানে কোনো পদই খালি নেই। এমন অসংখ্য অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন এনটিআরসিএ-এর কার্যালয়ে ভিড় করছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম হলেন অনিক সাহা। তিনি জেনারেল ক্যাটাগরিতে স্কুলশিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে সুপারিশ করা হয়েছে একটি কারিগরি পদে। অনিক জানান, “আমার যে সাবজেক্ট, সেটা কারিগরিতে নেই। কিন্তু আমাকে কারিগরিতে যোগদান করতে বলা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, যে প্রতিষ্ঠানে তাঁকে সুপারিশ করা হয়েছে, সেখানে পদটি মূলত কারিগরির ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাদের চাহিদাপত্রে ভুল করে তা উল্লেখ করেনি। ফলে সঠিক পদে আবেদন করেও অনিক চাকরিতে যোগদান করতে পারছেন না। তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য এনটিআরসিএ-এর কাছে আবেদন করেছেন।
কেবল অনিক সাহাই নন, এমন অভিযোগের শিকার হয়েছেন আরও বহু প্রার্থী। যদিও এনটিআরসিএ সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো অভিযোগ জমা পড়েছে, তা জানায়নি, তবে ভুক্তভোগীদের মতে, দুই শতাধিক প্রার্থী ভুল প্রতিষ্ঠান বা ভুল বিষয়ের সুপারিশের কারণে চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না।
আরেক ভুক্তভোগী মো. আশফাক মাদ্রাসা ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছিলেন। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, মাদ্রাসাটি এখনো নির্মাণাধীন। ফলে তার পক্ষে এই মুহূর্তে চাকরিতে যোগদান করা সম্ভব নয়। লাইজু আক্তার নামের অন্য একজন প্রার্থীর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তাঁকে যে পদে যোগদান করতে বলা হয়েছে, সেই পদে একজন কর্মরত আছেন এবং তিনি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে অবসরে যাবেন। অর্থাৎ, লাইজুকে প্রায় দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে তার পদে যোগ দেওয়ার জন্য। লাইজু প্রথম আলোকে বলেন, “কলেজে প্রত্যয়নপত্র আনতে গিয়ে শুনি আমার পদে একজন আছেন, তিনি ২০২৬ সালে অবসরে যাবেন। আমাকে এরপর যোগদান করতে বলা হয়েছে।”
এসব অভিযোগের বিষয়ে এনটিআরসিএ-এর সদস্য (যুগ্ম সচিব) ইরাদুল হক জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়, তাই এক ক্যাটাগরিতে আবেদন করে অন্য ক্যাটাগরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, প্রার্থীরা আবেদনের সময় ভুল করলে এমনটি হতে পারে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ খালি না থাকে, তবে সেই প্রার্থীকে নতুন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত করা হবে।
কত দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইরাদুল হক বলেন, “এখনো অনেক অভিযোগ জমা পড়ছে। আমরা সব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করব। যাঁদের আবেদনে ভুল নেই, তাঁরা অবশ্যই নিয়োগ পাবেন। যদি প্রতিষ্ঠানের ভুলের কারণে কেউ ১৮ তারিখের মধ্যে নিয়োগপত্র না পান, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রার্থীরা বলছেন, তাদের আবেদনের কোথাও ভুল ছিল না, বরং প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্রের ভুল এবং এনটিআরসিএ-এর যাচাই-বাছাইয়ের দুর্বলতার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শত শত চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন এখন ভুল সুপারিশের বেড়াজালে আটকে আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।