প্রতিনিধি ২০ অগাস্ট ২০২৫ , ১২:৫৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
চুল পড়া ইদানীং একটি সাধারণ কিন্তু জটিল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অনেকের কাছেই এটি কেবল সৌন্দর্যহানির কারণ নয়, বরং মানসিক উদ্বেগেরও উৎস। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মাথায় সাধারণত এক থেকে দেড় লাখ চুল থাকে, যার প্রতিটি চুলের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র আছে। এই চক্রের তিন বছর সময়কালকে বলা হয় অ্যানাজেন পর্যায় বা বৃদ্ধির ধাপ। এরপর চুল তিন মাস ধরে টেলোজেন বা বিশ্রামের পর্যায়ে থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই ঝরে যায়। এরপরেই নতুন চুল গজাতে শুরু করে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে যখন চুল পড়ার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ চুল বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায়, ফলে হঠাৎ করে চুল পড়া অনেক বেড়ে যায়।
চুল পড়ার পেছনে রয়েছে নানা ধরনের কারণ, যা ধীরে ধীরে বা দ্রুত চুল পড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে প্রচলিত কারণটি হলো বংশগত প্রভাব, যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রকট হয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগ যেমন থাইরয়েড সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগ চুল পড়ার জন্য দায়ী হতে পারে। মানসিক রোগ বা আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ এবং কেমোথেরাপির মতো চিকিৎসা পদ্ধতিও চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর বা মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চুল পড়তে পারে। এছাড়াও গর্ভনিরোধক বড়ি বন্ধ করা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের মতো হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতাও চুল পড়ার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টির অভাব চুল পড়ার অন্যতম কারণ। ত্বকের কিছু রোগ যেমন সোরিয়েসিস, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও লাইকেন প্ল্যানাস চুল পড়ার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, চুলকে অতিরিক্ত স্টাইল করা, সোজা করা বা রঙ করা, কিংবা অতিরিক্ত টানটান করে বাঁধার মতো অভ্যাসও চুলের ক্ষতি করে।
চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে প্রথমেই প্রয়োজন এর সঠিক কারণ নির্ণয়। এজন্য একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক সময় চুলের সমস্যাকে অবহেলা করা হয়, কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তা কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব।
চুলের যত্ন নেওয়ার কিছু সাধারণ উপায় অনুসরণ করলে এই সমস্যা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন:
চুল পড়ার সমস্যাকে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা এবং সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।