প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:১৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই রোডম্যাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, তাদের মতে, জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে রোডম্যাপ ঘোষণা করা সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী। দলটি মনে করে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নতুন সংকটের জন্ম দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা ছিল বিচার ও সংস্কার। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠিত হয়, যেখানে এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তাদের মতামত দিয়েছে।
আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ছয়টি উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে মতামত এসেছে এবং এনসিপি সেখানে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা একতরফাভাবে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করায় দলটি অবাক হলেও, বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে তারা তা মেনে নিয়েছে। তবে এনসিপি আশা করেছিল, রোডম্যাপ ঘোষণার আগে সরকার জুলাই সনদের অগ্রগতি প্রকাশ করবে, কিন্তু তা হয়নি। বরং কমিশনের পরবর্তী বৈঠকও পেছানো হয়েছে, যা উদ্বেগের বিষয়।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, “জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হলে ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হতে পারে। আমরা নির্বাচন বিরোধী নই, বরং আমরা এই রোডম্যাপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। তবে যত দ্রুত সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, ততই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা। তারা বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পূর্বশর্ত হলো রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে এর দায়ভার সম্পূর্ণরূপে সরকারকেই বহন করতে হবে। এনসিপি মনে করে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে জুলাই সনদের সঠিক বাস্তবায়নই দেশে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে।
দলটির নেতারা আরও বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের ফসল এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার যদি দ্রুত জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে, তবে তা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। এনসিপি আশা করে, সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেবে এবং নির্বাচনের আগেই সকল সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে, যাতে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।