খেলাধুলা

জান্নাতুল ফেরদৌসের চোখে জল, কেন?

  প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৫৬ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

জান্নাতুল ফেরদৌসের চোখে জল, কেন?

 

আশা ছিল, দেশের ক্রিকেটে আবার ফিরবেন। ফিরেছেনও। আশা ছিল, আবার লাল-সবুজ জার্সি গায়ে বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন। খেলেছেনও। কিন্তু এরপরও কেন যেন তার সব আশা-স্বপ্ন যেন এখন ধূসর। দেশের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফর্ম করেও আসন্ন নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ এই ক্রিকেটার। তাই হয়তো আবারও পাড়ি জমাবেন অস্ট্রেলিয়ায়।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে আট দলের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। গত ২৩ আগস্ট ঘোষিত ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাননি জান্নাতুল ফেরদৌস। তবে ২৫ বছর বয়সী এই অফ-স্পিনার গত মে মাস থেকে চলমান নারী দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ঠিকই রয়েছেন।

 

প্রত্যাবর্তনের গল্প

 

২০১৬ সালে প্রথম জাতীয় দলে সুযোগ পান জান্নাতুল। আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০১৮ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। এরপরই দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১৯ সালে দেশের ক্রিকেট ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পাড়ি জমান সিডনিতে। সেখানে সিডনি ক্রিকেট ক্লাব, ব্যাংকসটাউন স্পোর্টস উইমেন্স ক্রিকেট ক্লাব এবং সর্বশেষ ক্যানবেরার রাজ্য দল অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটালস টেরিটরির হয়ে খেলেন। ২০২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে পেয়েছিলেন ব্যাংকসটাউন স্পোর্টস উইমেন্স ক্রিকেট ক্লাবের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি।

গত বছর আবারও জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। আর সে স্বপ্ন পূরণের জন্য মাঠে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেন (৮ ম্যাচে ২১ উইকেট)। মেয়েদের লাল বলের আসর বিসিএলের সর্বশেষ আসরেও দুই ম্যাচের তিন ইনিংসে ১৪ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন সফলতম বোলার।

ঘরোয়া ক্রিকেটে এই পারফরম্যান্স জান্নাতুলের জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন পূরণ করে। গত ডিসেম্বরে সিলেটে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর এপ্রিলে পাকিস্তানের অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইয়েও খেলেন। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে পান ৫ উইকেট। ৫ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সফলতম বোলারও ছিলেন তিনি।

 

হতাশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

 

এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও যখন দল থেকে বাদ পড়ার ‘পুরস্কার’ পেলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই জান্নাতুল হতাশ। কেন বাদ পড়লেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমার জন্য অবশ্যই শকিং। তবে আমার কাছে এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।”

অন্যদিকে, নারী দলের নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ দল নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। যদিও জানা গেছে, কোচ ও নির্বাচকদের চোখে জান্নাতুলের অফ-স্পিন নাকি বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে কিছুটা কম কার্যকর।

ভালো খেলতে থাকা অবস্থায়ও বাদ পড়ে জান্নাতুল ধরে নিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তাই আবারও ফিরে যেতে চান অস্ট্রেলিয়ায়। তার ভাষায়, “জানি না কী বলব! যে রকম আশা করে দেশে এসেছিলাম, যে রকম পরিকল্পনা করে এগোচ্ছিলাম… কিন্তু এভাবে চললে আমি কীভাবে এখানে খেলা চালিয়ে যাব? হয়তো আবার অস্ট্রেলিয়াতেই ফিরে যাব, সেখানেই ক্রিকেট খেলব। আমি সেখানে খেলতে পারব, পড়াশোনা করতে পারব, আবার টুকটাক কোচিংয়েও মনোযোগ দেব ভাবছি।”

অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় খেলার পাশাপাশি লেভেল-২ কোচিং কোর্সও সম্পন্ন করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার দু-একটি ক্লাবের সঙ্গে তার এরই মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। “দুটি ক্লাব এরই মধ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছে আমার জন্য সব সময় দরজা খোলা আছে।”

দেশে ফিরে জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতাটা জান্নাতুলের কাছে ‘মিশ্র’। তিনি বলেন, “এক দিক দিয়ে অভিজ্ঞতা ভালো যে, আমি আবার অনেক দিন পর জাতীয় দলে ফিরতে পেরেছি। আমার ইচ্ছা ছিল জাতীয় দলে খেলা, লাল-সবুজের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। তবে এমন কিছু অভিজ্ঞতাও হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে যাওয়াটা কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই কাম্য হবে না।” তবে সেই খারাপ অভিজ্ঞতা কী, তা বলতে তিনি নারাজ।