প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:০৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে হাজির হওয়ার সময় এক নারী নিজের যে পরিচয় দিয়েছিলেন, কারাগারে আসার পর বায়োমেট্রিক যন্ত্রে তার সবটাই ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ গত সোমবার বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে জানিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৯। গ্রেপ্তারের সময় ওই নারী নিজের নাম বলেন রহিমা আক্তার (৩৫)। এই পরিচয়েই তাকে মাদক মামলায় আসামি করে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু কারাগারে তার আঙুলের ছাপ নেওয়ার পর বেরিয়ে আসে আসল সত্য। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তার নাম আসে মনোয়ারা বেগম, যার ঠিকানা কক্সবাজারের পেকুয়াতে।
কারা কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে মনোয়ারা স্বীকার করেন, জামিনে বেরিয়ে আসার পর যাতে পুনরায় ধরা না পড়েন, সে কারণেই তিনি মিথ্যা পরিচয় দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেনটিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেম ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ পর্যন্ত জাল পরিচয় ব্যবহার করা ১৬ জন বন্দীর আসল পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, পুলিশের কিছু সদস্যের গাফিলতির কারণেই এমন ঘটনা ঘটে। তিনি মনে করেন, গ্রেপ্তারের পরপরই আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করা উচিত। তা না হলে আসামিরা জামিনে বেরিয়ে সহজেই গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে পারে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধীদের জালিয়াতি ধরতে নতুন এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর।