অর্থনীতি

ডলারের সংকট কাটছে: রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

  প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:০৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

ডলারের সংকট কাটছে: রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির খবর। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ৩৩ লাখ ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ৩১ লাখ ডলার।

রোববার এই দুটি হিসাবে যথাক্রমে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।

 

আকুর দেনা শোধের পর রিজার্ভে বড় ধাক্কা

 

চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) ২০২ কোটি ডলার পরিশোধ করার পর দেশের রিজার্ভে একটি বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। সেই সময়ে গ্রস রিজার্ভ ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আবার রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ে বড় ভূমিকা

 

রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে প্রধানত দুটি কারণ কাজ করেছে: প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি। এছাড়াও, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত ঋণও রিজার্ভ বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত জুন মাসে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসের পর এই প্রথম রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল।

২০২৩ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের শর্ত মেনে বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে। ওই সময়ে রিজার্ভ ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া এই রিজার্ভের পরিমাণ দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

হুন্ডি বন্ধ হওয়ায় বাড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহ

 

দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্ট মাসে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। এরপর থেকে এটি ক্রমাগত কমতে থাকে এবং গত জুলাই মাসে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে সম্প্রতি সরকার পতনের পর অর্থ পাচারের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে হুন্ডি কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে এবং ডলারের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪১২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৬০ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে আশার সঞ্চার করছে এবং ভবিষ্যতে রিজার্ভের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়। ডলার সংকটের এই সময়ে এই খবরটি সত্যিই স্বস্তিদায়ক।