প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা, বুধবার: পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে পুরো শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে লং মার্চ করার সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের পথ আটকায়। দীর্ঘক্ষণ ব্যারিকেডের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে।
এর আগে, দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ‘কোটা না মেধায়, মেধায় মেধায়’ এবং ‘অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা অবসান চাই’ এমন স্লোগানে তারা তাদের দাবি তুলে ধরেন। তাদের স্লোগানগুলো ছিল, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম, সংগ্রাম’, ‘কোটা না মেধায়, মেধায় মেধায়’, ‘সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান’, ‘অবৈধ ডিপ্লোমা কোটা অবসান চাই’, ‘কোটার নামে অবিচার, বন্ধ করো’, ‘কোটা প্রথা ভেঙে দাও, মেধাবিদের অধিকার ফিরিয়ে দাও’।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো হলো- ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ উপাধি ব্যবহার বন্ধ করা, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদোন্নতি দিয়ে নবম গ্রেডে উন্নীত না করা এবং দশম গ্রেডের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্নাতক প্রকৌশলীদের সুযোগ দেওয়া। শিক্ষার্থীদের মতে, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের এই সুযোগ-সুবিধা দিলে তা স্নাতক প্রকৌশলীদের অধিকার খর্ব করবে এবং মেধাবীদের প্রতি অবিচার হবে।
গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা ঢাকায় এসে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকার তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে তারা কঠোর কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। তবে, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি থেকে সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। এই আন্দোলনের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের কিছু এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ক্রমশই তীব্র হচ্ছে।