প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৪০ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক): গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সম্প্রতি ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, কিছু মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডের সমাজে ঢুকে পড়ে সেখানকার জনগণকে ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছেন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোপেনহেগেনে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়। ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘ডিআর’ তাদের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই গোপন তৎপরতার খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করে সেটিকে ডেনমার্ক থেকে আলাদা করার পক্ষে জনমত তৈরি করা। তবে ঠিক কারা এই তৎপরতা চালাচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এই ঘটনাকে তার দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এই অবস্থান থেকেই আমরা মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছি।”
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে বিভিন্ন বিদেশি শক্তি গ্রিনল্যান্ডকে তাদের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে সেখানকার মানুষের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বিবিসির পক্ষ থেকে ডেনমার্কের মার্কিন দূতাবাস এবং ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিলেন। যদিও সেই প্রস্তাব ডেনমার্কের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়। সম্প্রতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে ডেনমার্ক এই অঞ্চলে যথেষ্ট বিনিয়োগ করছে না।
এদিকে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন কয়েক মাস আগে গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “আপনারা অন্য কোনো সার্বভৌম দেশকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন না।”
ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে এসেছে। দুটি দেশই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও গ্রিনল্যান্ডকে দখলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় ডেনিশরা বিস্মিত এবং উদ্বিগ্ন।
বর্তমানে, ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি শক্তির তৎপরতার ওপর নজর রাখছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “বিভিন্ন বিদেশি শক্তি গ্রিনল্যান্ড এবং সেখানে ডেনমার্কের অবস্থান নিয়ে যে আগ্রহ দেখাচ্ছে, সে বিষয়ে সরকার অবগত।” এই ঘটনা দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কে এক নতুন জটিলতার সৃষ্টি করেছে, যার ভবিষ্যৎ গতিবিধি এখন কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।