লাইফস্টাইল

পারফেক্ট পাস্তা: কেনার আগে যা জানতে হবে, আর রান্নার সঠিক পদ্ধতি

  প্রতিনিধি ২০ অগাস্ট ২০২৫ , ২:৩১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

পারফেক্ট পাস্তা: কেনার আগে যা জানতে হবে, আর রান্নার সঠিক পদ্ধতি

পাস্তা এখন আর কেবল ইতালির ঐতিহ্যবাহী খাবার নয়, এটি সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক প্রিয় নাম। কিন্তু যখনই বাজারে যাই, অসংখ্য ব্র্যান্ড আর প্যাকেটের ভিড়ে একটা প্রশ্ন মনে আসে—এত রকম শুকনা পাস্তার মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো? কীভাবে বুঝব কোনটা কিনলে পাস্তার আসল স্বাদ আর মান বজায় থাকবে?

এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিখ্যাত ইতালীয় শেফ ও নিউ ইয়র্কের ‘পিকোলা কুচিনা’ রেস্তোরাঁর মালিক ফিলিপ গুয়ারদিওনে। তিনি মনে করেন, ভালো পাস্তার আসল রহস্য লুকিয়ে থাকে এর মৌলিক উপাদানগুলোতে, বিশেষ করে এর ময়দাতে।

সেরা পাস্তার গোপন রহস্য: মানসম্মত সেমোলিনা

 

শেফ ফিলিপের মতে, ভালো পাস্তা চেনার প্রথম এবং প্রধান উপায় হলো এর উপকরণ তালিকা যাচাই করা। তিনি বিএলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “একটি ভালো পাস্তা মানেই ভালো ময়দা। কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে উপাদান দেখে নিন। নিশ্চিত করুন এতে মানসম্মত সেমোলিনা (ডুরাম গমের ময়দা) ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।”

তার মতে, একটি মানসম্মত শুকনা পাস্তা তৈরির জন্য কেবল দুটি উপাদানই যথেষ্ট: ডুরাম গমের সেমোলিনা এবং পানি। এর বাইরে যদি কোনো অচেনা রাসায়নিক বা সংযোজনী থাকে, তাহলে সেটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কেন সেমোলিনা এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এটি শুধু পাস্তার স্বাদকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং সঠিকভাবে সেদ্ধ হওয়ার পরও পাস্তা যেন অতিরিক্ত নরম বা আঠালো না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করে। ফলে এটি রেস্তোরাঁর মতো সুস্বাদু ও উন্নত মানের হয়। শেফ ফিলিপের ভাষায়, “সেমোলিনার মান খারাপ হলে পাস্তার গঠন ঠিক থাকে না। হয় এটি সেদ্ধ হয়ে গলে যায়, নয়তো শক্ত হয়ে যায়, যা খাবারের স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।”

 

শুকনা পাস্তার জনপ্রিয়তার কারণ

 

যদিও তাজা পাস্তার একটি নিজস্ব আবেদন রয়েছে, কিন্তু রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শুকনা পাস্তার ওপরই বেশি নির্ভর করা হয়। এর কারণগুলো হলো:

  • দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ: শুকনা পাস্তা বছরের পর বছর ভালো থাকে। যদিও এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নেই, তবে সময়ের সাথে সাথে এর মান কিছুটা কমতে পারে।
  • সহজ রান্না: এটি খুব সহজে এবং দ্রুত রান্না করা যায়। মাত্র কয়েক মিনিটেই তৈরি হয়ে যায় এক প্লেট দারুণ পাস্তা।
  • সাধারণ প্রস্তুতি: সামান্য অলিভ অয়েল বা মাখন, আর ভালো মানের চিজ দিয়েও এটি অসাধারণ খেতে লাগে।

 

পাস্তা কেনার সময় যে বিষয়গুলো দেখবেন

 

আকর্ষণীয় মোড়ক বা বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন দেখে পাস্তা না কিনে, শেফ ফিলিপের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত:

  • উপাদান তালিকা পড়ুন: দেখুন শুধু ডুরাম গমের সেমোলিনা এবং পানি আছে কিনা।
  • কৃত্রিম উপাদান এড়িয়ে চলুন: প্যাকেটে কৃত্রিম রঙ, প্রিজারভেটিভ বা অন্য কোনো সংযোজন থাকলে তা কিনবেন না।
  • গমের মান যাচাই করুন: মনে রাখবেন, গমের মান যত ভালো হবে, পাস্তার স্বাদ ও গঠন ততই উন্নত হবে।
  • আকৃতি ও নকশা: পাস্তার গায়ে কিছুটা খসখসে বা রুক্ষ ভাব থাকলে তাতে সস ভালো করে লেগে থাকে, যা এর স্বাদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

রান্নার সঠিক পদ্ধতি

 

ভালো মানের পাস্তা কেনার পরই আপনার কাজ শেষ নয়। এটি কীভাবে রান্না করছেন, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শেফ ফিলিপ গুয়ারদিওনের দেওয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলুন:

  • প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহার করুন: কম পানিতে পাস্তা রান্না করলে এটি আঠালো হয়ে যেতে পারে।
  • পানি পুরোপুরি ফুটলে পাস্তা দিন: পানি টগবগ করে ফুটতে শুরু করলে তবেই পাস্তা ছাড়ুন।
  • লবণ দিন উদারভাবে: শেফ ফিলিপের ভাষায়, “পানি যেন সমুদ্রের মতো নোনতা হয়।” এতে পাস্তার আসল স্বাদ ফুটে উঠবে।
  • নিয়মিত নাড়ুন: রান্নার সময় মাঝে মাঝে নেড়ে দিলে পাস্তা হাঁড়ির তলায় লেগে যাবে না।

পাস্তা রান্না এক ধরনের শিল্প। সঠিক উপাদান, সঠিক পানি এবং সঠিক তাপমাত্রা—সবকিছু একসঙ্গে মিলে তবেই তৈরি হয় একটি নিখুঁত ও সুস্বাদু পাস্তা।