আন্তর্জাতিক

পুশইন’ নয়, নিয়ম মেনে অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে বিএসএফ: মহাপরিচালক দালজিৎ সিং

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ৯:৫৮ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

পুশইন’ নয়, নিয়ম মেনে অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে বিএসএফ: মহাপরিচালক দালজিৎ সিং

ভারত থেকে জোরপূর্বক বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশইন’ করার অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং এটি নিয়ম মেনে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর একটি প্রক্রিয়া। এমনটাই দাবি করেছেন ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী (২৫-২৮ আগস্ট) মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনের সমাপনী দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

গত কয়েক বছর ধরে ভারত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিচ্ছিল। তবে বিএসএফের মহাপরিচালকের এই বক্তব্যে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৫৫০ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, আরও প্রায় ২,৪০০ জনের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হবে, তাদেরও একইভাবে ফেরত পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ:

এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। এই দলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন, সড়ক বিভাগ, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সীমান্ত সম্পর্কিত নানা জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধানের জন্য দুই দেশ কতটা আন্তরিক।

অন্যদিকে, বিএসএফের মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এই দলে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:

এই সম্মেলনটি কেবল ‘পুশইন’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সীমান্ত হত্যা, ‘পুশইন’ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ। ভারতের দিক থেকে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান বন্ধ করার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অবকাঠামো নির্মাণ রোধ, সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কিছু অপপ্রচার নিয়ে সীমান্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনের জন্যও উভয় পক্ষ আলোচনা করে।

বিএসএফ মহাপরিচালকের দাবি, ‘পুশইন’ কোনো জোরপূর্বক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর একটি বৈধ পদক্ষেপ। এই বক্তব্য দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন একটি দিক উন্মোচন করেছে। তবে, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মানবিক দিকগুলো নিশ্চিত করা উভয় দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই সম্মেলন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।