অর্থনীতি

প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৭ দিনে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার!

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১২:০৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ২৭ দিনে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার!

দেশের অর্থনীতিতে দারুণ সুসংবাদ! চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ২৭ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ২০৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক দারুণ ইতিবাচক খবর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই ২৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৫.৯০ শতাংশ। গত বছর এই সময়ে এসেছিল ১৯৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বিশেষ করে, গত ২৭ আগস্ট মাত্র একদিনেই প্রবাসীরা ৮ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা একক দিনে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শুধু আগস্ট মাস নয়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৪৫৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭.৫০ শতাংশ বেশি।

আরিফ হোসেন খান জানান, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক বড় ভূমিকা পালন করছেন। গত জুলাই মাসে দেশে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৪ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২২ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৬৮ কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

 

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড

 

শুধু চলতি মাসেই নয়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এসেছে। ওই অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।

এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করছে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের প্রবাসীরা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। তাদের পাঠানো অর্থ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ

 

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা। সরকার ২.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়া, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের দক্ষতার স্বীকৃতিও রেমিট্যান্স প্রবাহকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে আসা রেমিট্যান্স দেশের মোট আয়ের একটি বড় অংশ।

এই ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি অব্যাহত থাকলে তা শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভই বাড়াবে না, বরং তা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।