প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১১:৪৪ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বাঁধগুলো থেকে পানি ছেড়ে দেওয়ার পর প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব প্রদেশের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তুর্কি গণমাধ্যম আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পাকিস্তানের পাঞ্জাবের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) একটি সর্বশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে রাভি, চেনাব এবং সুতলেজ নদীর পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর, ভাওয়ালনগর এবং বিহারী জেলার প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, ভারতের বাঁধগুলো উপচে পড়ায় পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই ভয়াবহ বন্যার মূল কারণ। তবে শুধু ভারতের ছেড়ে দেওয়া পানিই নয়, গত কয়েকদিন ধরে ওই অঞ্চলে যে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তার কারণেও নদীগুলো ফুলেফেঁপে উঠেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির মুখপাত্র।
গত রোববার ভারত থেকে পাকিস্তানকে বন্যার আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ভারতের বাঁধ থেকে পানি ছাড়ার কারণে তাওয়াই নদীতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভারতের হিমাচল প্রদেশ, কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডে গত কয়েকদিনে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে সেখানকার বাঁধগুলো থেকে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার ঘটনার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ চুক্তি বাতিল করেছিল। এরপর এই প্রথমবার নদীর পানি নিয়ে পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।
এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একদিকে নদীগুলোর পানির স্তর বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে ভারত থেকে অতিরিক্ত পানি আসার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাঞ্জাব প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে বন্যার্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত থেকে বন্যার আগাম সতর্কতা আসায় তারা কিছুটা প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন, যার ফলে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি এবং বহু ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন আকস্মিক ও তীব্র বৃষ্টিপাত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্যই আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।