জাতীয়

মির্জা ফখরুলসহ ৬৫ বিএনপি নেতার মুক্তি: রমনা মডেল থানার বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি

  প্রতিনিধি ২১ অগাস্ট ২০২৫ , ৩:৪১ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জা ফখরুলসহ ৬৫ বিএনপি নেতার মুক্তি: রমনা মডেল থানার বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি

রাজধানীর রমনা মডেল থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলা থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৬৫ জন নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রফিকুল ইসলাম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, সাবেক ফুটবলার ও বিএনপি নেতা আমিনুল হক, এবং বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

এই মামলাটি গত বছর ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছিল। মামলার এজাহার অনুসারে, ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিএনপি নেতাকর্মীরা রমনা থানা এলাকায় যানবাহনে ভাঙচুর করে, পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনায় একই বছরের ৩১ অক্টোবর রমনা থানার এসআই আউয়াল বাদী হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মামুন হাসান তদন্ত শেষে গত বছরের ২১ অক্টোবর আদালতে দুটি পৃথক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই প্রতিবেদনে মির্জা ফখরুলসহ মোট ৬৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এরপর, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে তাদের অব্যাহতি দেন। তবে, বিস্ফোরক আইনের মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়েছিল, এবং সেখানেই এই মামলাটির নিষ্পত্তি হলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলার অব্যাহতি বিএনপির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য স্বস্তি। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একের পর এক মামলায় জড়ানো দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই রায়ের ফলে কিছুটা চাপমুক্ত হলো। এটি দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে।

এই রায় প্রমাণ করে যে, যথাযথ তদন্তের পর অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো আদালতে শেষ পর্যন্ত টিকছে না। রাজনৈতিক মামলায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জড়িয়ে রাখার যে অভিযোগ রয়েছে, এই রায় সেটিকে আরও জোরালো করেছে। এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ রায়ের পর বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে স্বস্তির ঢেউ দেখা গেছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এই বিজয় তাদের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই রায় প্রমাণ করে যে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজে আইনের শাসন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।