প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:৩৪ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার অষ্টম বার্ষিকীতে, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) তাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি শুধু মৌখিক সমর্থনই নয়, বরং ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও তাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সংহতি ও একটি টেকসই সমাধানের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওআইসি জানায়, রোহিঙ্গারা এখনো নিপীড়ন, রাষ্ট্রহীনতা এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার। এই নির্মম বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশ ও অন্যান্য আশ্রয়দানকারী দেশে শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি, মিয়ানমারের ভেতরেও হাজার হাজার মানুষ হত্যাকাণ্ড, গুরুতর বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।
ওআইসি মনে করে, এই মানবিক সংকট কেবল এক বা দুটি দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান মামলাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানায়, যা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে কাজ করছে। একইসাথে, ওআইসি সংঘাতের সব পক্ষকে, বিশেষ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মিকে, আইসিজে-এর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা মেনে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে বাংলাদেশ ও অন্যান্য ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উদারতার প্রশংসা করা হয়েছে, যারা লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এই দেশগুলোর মানবিক সহায়তা এবং সংহতিকে ওআইসি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে, এই বিশাল মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
ওআইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে “বাস্তব পদক্ষেপ” নেওয়ার আহ্বান জানায়। শুধু ত্রাণ দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না, বরং এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ওআইসি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, একটি সমন্বিত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে, যা রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নতুন ভোরের সূচনা করবে। এই স্মরণীয় দিনে ওআইসি রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই সংকটের সমাধান কেবল রোহিঙ্গাদেরই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি ন্যায় ও শান্তির বার্তা বয়ে আনবে। তাই, ওআইসি’র এই আহ্বান কেবল একটি বিবৃতি নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বশীল এবং মানবিক পদক্ষেপের প্রতিফলন।