প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:২৭ এএম প্রিন্ট সংস্করণ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির দামও হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের ক্রেতারা। পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কিনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি সবজির দামই এখন লাগামহীন।
বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়শ, পটল, শাকের মতো পরিচিত সবজির দাম কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশচুম্বী হয়েছে। ক্রেতাদের এখন প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি বাজারে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ফলে সবজি বাজারের আগুনের আঁচ কেবল চুলার জন্য নয়, তা এখন সরাসরি ক্রেতার পকেটে এসে পৌঁছেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় দয়াগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ১৩০ টাকা, এবং শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৭৫ টাকা এবং টমেটো ১৪০ টাকায় উঠেছে। পটল ৮০ টাকা এবং প্রতি আঁটি শাকের দামও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজ ৫০ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, এবং পটল ও করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত।
দয়াগঞ্জ বাজারের সবজি ক্রেতা জেসমিন আক্তার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এক কেজি বেগুন কিনলাম ৯০ টাকায়, পেঁয়াজ ৭০, শসা ৮০ টাকা। টমেটো কিনলাম ১২০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে তো আমাদের রান্নাঘর বন্ধ হয়ে যাবে।” শুধু দয়াগঞ্জ বাজার নয়, ধূপখোলা বাজার এবং লক্ষ্মীবাজারের চিত্রও একই। ধূপখোলার সবজি বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, “সকালে সবজি এনে বিকেলেই খালি হয়ে যায়, কিন্তু দাম কমানো যাচ্ছে না। আমরাও লাভ করছি না, বরং পুড়ছি। পাইকারি আড়তে দাম না কমলে আমাদের পক্ষেও কমানো সম্ভব হয় না।”
পাইকারি সবজি ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুমি সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বাড়ছে। এর পাশাপাশি পরিবহন খরচ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে সরবরাহের ঘাটতি খুচরা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও কম নয়, যারা কৃষক ও ক্রেতার মাঝখানে থেকে আসল মুনাফা পকেটে পুরছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ করে আবহাওয়ার তারতম্য এবং টানা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মাঠ থেকে পর্যাপ্ত সবজি তুলতে পারছেন না। অনেক ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে মৌসুমি সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে মৌসুমি সবজি দীর্ঘ সময় ধরে রাখা যায় না। ফলে চাহিদা বাড়লে তাৎক্ষণিক ঘাটতি তৈরি হয়, যা সবজির দাম বাড়িয়ে দেয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল না থাকলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, যা পুরো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন আয়ের মানুষ। সবজির বাজারে এই অস্থিরতা নতুন কিছু নয়, কিন্তু নিয়মিত তদারকি এবং সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এর চাপ আরও বাড়বে। সরকার, প্রশাসন এবং বাজার-সংশ্লিষ্ট সবার এখন জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় এই আগুন শুধু বাজারেই নয়, জনজীবনেও ছড়িয়ে পড়বে।