প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১:১৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
বেগুন একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর সবজি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সাধারণত, এটি সবার জন্যই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যার কারণে বেগুন খাওয়া আপনার জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। জেনে নিন কোন ধরনের মানুষের বেগুন এড়িয়ে চলা উচিত।
নাইটশেড পরিবারের সবজি যেমন বেগুন, টমেটো, আলু এবং গোলমরিচ কিছু মানুষের মধ্যে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। যদি আপনার নাইটশেড অ্যালার্জি থাকে, তাহলে বেগুন খাওয়ার পর ত্বকে জ্বালা, মাথাব্যথা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। এমনকি এটি গুরুতর অ্যালার্জির কারণও হতে পারে, যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এমন সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে বেগুন খাওয়া বন্ধ করুন।
যাদের কিডনিতে পাথর বা কিডনি সংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যা আছে, তাদের বেগুন এড়িয়ে চলা উচিত। বেগুনে অক্সালেট নামক একটি উপাদান থাকে, যা কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে বা বিদ্যমান পাথরের আকার বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ-অক্সালেটযুক্ত খাবার কিডনির ওপর চাপ বাড়ায়, তাই কিডনির সমস্যা থাকলে বেগুন কম খাওয়া ভালো।
বেগুনে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যতালিকাগত ফাইবার থাকে, যা হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) বা হজমের অন্যান্য সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ফাইবার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। বেগুন বেশি খেলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের সংবেদনশীল পাচনতন্ত্র আছে, তাদের বেগুন পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
বেগুন এবং এর খোসায় নাসুনিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এই যৌগটি শরীরের অতিরিক্ত আয়রনকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত আয়রন থাকলে এটি ভালো, কিন্তু যাদের শরীরে আগে থেকেই আয়রনের অভাব বা রক্তস্বল্পতা আছে, তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর। নাসুনিন আয়রনের শোষণ কমিয়ে দেয়, ফলে শরীরে আয়রনের অভাব আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই যদি আপনার রক্তস্বল্পতা থাকে, তাহলে বেশি পরিমাণে বেগুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সতর্কতা: বেগুন একটি উপকারী সবজি, কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝে এটি খাওয়া উচিত। উপরে উল্লিখিত সমস্যাগুলো যদি আপনার থাকে, তবে বেগুন খাওয়ার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।