প্রতিনিধি ২৮ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৫৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জেরে এই গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। সেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, শিক্ষক, আইনজীবী এবং অন্যান্য পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে উপস্থিত জনতার মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। তার মন্তব্যের প্রতিবাদে অনুষ্ঠানস্থলে বিক্ষোভ শুরু হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। জনতা তার বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে এবং স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের খবর দেওয়া হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রমনা বিভাগের একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জনতার প্রতিবাদের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে হজ, তাবলিগ জামাত এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচিত হন। ওই মন্তব্যের পর তাকে মন্ত্রিসভা থেকে এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার ওই মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জনসম্মুখে তার উপস্থিতি কমে এসেছিল। ডিআরইউতে আজকের এই অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়া এবং এরপর গ্রেফতারের ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই গ্রেফতারের পর আওয়ামী লীগ বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পর ডিআরইউ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে এখন কোথায় রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সৃষ্ট জনরোষের ফলে এই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।