আন্তর্জাতিক

স্থায়ী শান্তির খোঁজে ইউক্রেন: নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ইউরোপের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:৫৪ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

স্থায়ী শান্তির খোঁজে ইউক্রেন: নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ইউরোপের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সাড়ে তিন বছরে গড়িয়েছে, এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখন তার দেশের নিরাপত্তার জন্য সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পোল্যান্ডে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া কিয়েভে নতুন করে হামলা চালিয়েছে, যাতে ২২ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড চলমান সংঘাতের ভয়াবহতা আরও একবার তুলে ধরেছে।

বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভ্রোৎসকি এবং এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে হওয়া এই বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া আবার হামলা করলে স্থলে, আকাশে, আর সাগরে আমাদের প্রতিরক্ষায় কারা এগিয়ে আসবে, কীভাবে অংশ নেবে? দয়া করে আপনারা নিজেদের ভূমিকা স্পষ্ট করুন।” তার কথায় স্পষ্ট, ইউক্রেন এখন শুধু যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার ওপর নির্ভর করতে চাইছে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে।

জেলেনস্কি মনে করেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কিছুতে আগ্রহী নন। তাই, শুধু কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা যথেষ্ট নয়; মস্কোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। বৈঠকের নেতারাও এই বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জেলেনস্কি জানিয়েছেন। তাদের এই অভিন্ন অবস্থান আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের অবসান ঘটাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করতে আগ্রহী। জেলেনস্কি এই ধরনের বৈঠকের পক্ষে এবং ইউরোপীয় নেতাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে সমর্থন করেন, যাতে করে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করা যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের পর থেকেই ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতারা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করছেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন। এমনকি, যদি সংঘাত নিরসনে কোনো অগ্রগতি না হয়, তবে মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও ট্রাম্প বলেছেন। কিয়েভে সম্প্রতি হওয়া হামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে “সন্তুষ্ট নন”, হোয়াইট হাউস থেকেও তা জানানো হয়েছে।

জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের কাছে তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছেন, “এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন দেখেন, আমরা ইউরোপীয়রা যুদ্ধ শেষ করতে একসঙ্গে কাজ করছি।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে জেলেনস্কি ট্রাম্পকে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনের পাশে আছে এবং সবাই মিলে একটি সমাধান খুঁজতে বদ্ধপরিকর।

আজ শুক্রবার নিউইয়র্কে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক করার কথা। এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এতে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেন চাইছে, পশ্চিমা মিত্রদের থেকে এমন একটি দৃঢ় নিরাপত্তা কাঠামো, যা ভবিষ্যতে যেকোনো রুশ আগ্রাসন থেকে তাদের রক্ষা করতে পারবে।

যুদ্ধ যখন প্রায় তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে, তখন ইউক্রেনের এই স্পষ্ট অবস্থান শান্তির এক নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে। তবে, সেই পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের, সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর। এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং ইউক্রেনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একমাত্র সমাধান।