বিনোদন

২০ বছর পরেও অটুট ‘পরিণীতা’র জাদু: নস্টালজিয়ায় ভাসলেন বিদ্যা-রেখা

  প্রতিনিধি ২৭ অগাস্ট ২০২৫ , ১০:১৫ এএম প্রিন্ট সংস্করণ

২০ বছর পরেও অটুট 'পরিণীতা'র জাদু: নস্টালজিয়ায় ভাসলেন বিদ্যা-রেখা

মায়ানগরীর আকাশ সেদিন কালো মেঘে ঢাকা, নেমেছিল তুমুল বৃষ্টি। কিন্তু মুম্বাইয়ের এক প্রেক্ষাগৃহে তখন অন্য এক ঝলমলে রাত। চারদিকে ছড়িয়ে আছে হাসির ছটা, নস্টালজিয়ার সুর। কারণ, সেদিন উদযাপিত হচ্ছিল বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘পরিণীতা’-এর ২০ বছর পূর্তি। যে ছবি রূপালী পর্দায় প্রথম আবির্ভাবের মাধ্যমেই রাতারাতি খ্যাতি এনে দিয়েছিল অভিনেত্রী বিদ্যা বালানকে। সেই অবিস্মরণীয় রাতকে ঘিরে স্মৃতিচারণ, হাসি, আর উদযাপনের সাক্ষী হয়ে রইলেন বলিউড তারকারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রযোজক বিধু বিনোদ চোপড়া, অভিনেত্রী বিদ্যা বালান, দিয়া মির্জা, এবং কিংবদন্তি রেখা। সেই সঙ্গে সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল এবং সঙ্গীত পরিচালক শান্তনু মৈত্রের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। ‘পরিণীতা’র ২০ বছর পূর্তি উদযাপনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল শ্রেয়ার গানের তালে বিদ্যা আর রেখার যুগলবন্দী নাচ। এর পাশাপাশি বিদ্যার ঐতিহ্যবাহী ধুনুচি নাচও সবার নজর কাড়ে।

 

রুপালী পর্দায় ‘পরিণীতা’র প্রত্যাবর্তন

 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘পরিণীতা’ ছবির মাধ্যমেই বলিউডে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয়েছিল প্রয়াত বাঙালি পরিচালক প্রদীপ সরকারের। ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন বিদ্যা বালান, সাইফ আলী খান, সঞ্জয় দত্ত, দিয়া মির্জা, রাইমা সেন এবং সব্যসাচী চক্রবর্তীর মতো তারকারা। দীর্ঘ দুই দশক পরেও ছবিটি দর্শকের মনে তার জায়গা ধরে রেখেছে, যার প্রমাণ মেলে এর ২০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকাদের কথায়।

‘আমার কাছে বিদ্যাই আসল ‘পরিণীতা” : রেখা

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রেখা তাঁর পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন বিধু বিনোদ চোপড়া তাঁকে এই ছবির প্রস্তাব দেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন মূল চরিত্রে কারা অভিনয় করছেন। যখন তিনি জানতে পারেন সাইফ, সঞ্জয় আর বিদ্যার কথা, তখন তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বিদ্যা কে?’ এরপর বিধু বিনোদ তাঁকে সিনেমার কিছু ফুটেজ পাঠান, যা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে যান। রেখা বলেন, “আমি ওর অপ্রচলিত সৌন্দর্য আর গভীরতা দেখে আবিষ্ট হয়েছিলাম। ওর থেকে আমি চোখ সরাতে পারছিলাম না।” মুগ্ধতা এতটাই বেশি ছিল যে তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর ম্যানেজারকে ফোন করে ছবিটি করার কথা জানান। রেখা আরও বলেন, ‘আমি জানতামই না যে ‘পরিণীতা’ আগেও নির্মাণ করা হয়েছে। আমার কাছে বিদ্যা বালানই সারা জীবন এবং একমাত্র ‘পরিণীতা’ হয়েই থাকবে।’

রেখা কেবল বিদ্যার অভিনয় দক্ষতারই প্রশংসা করেননি, বরং তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতাও তুলে ধরেন। ‘ক্যায়সি প্যাহেলি’ গানের শুটিংয়ের সময়কার স্মৃতিচারণ করে রেখা বলেন, বিদ্যা চুপ করে বসে তাঁর প্রতিটি খুঁটিনাটি লক্ষ্য করত। গানের শুটিং শেষ হওয়ার পর বিদ্যা তাঁর ভ্যানিটি ভ্যানে এসে তাঁর হাত ধরে চুমু খেয়ে বলেছিল, ‘আমি আপনার থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’ রেখা বলেন, ‘আজ আমি বলতে চাই, ওকে দেখে আমি অনেক কিছু শিখেছি।’

 

‘এই ছবি আমার জীবন বদলে দিয়েছে’: বিদ্যা বালান

 

‘পরিণীতা’ ছবিটি তাঁর জীবন কীভাবে বদলে দিয়েছে, সে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদ্যা। তিনি বলেন, ‘আমি অভিনেত্রী হওয়ার জন্যই জন্মেছিলাম। এই একটা স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম। আর ২০ বছর ধরে এই স্বপ্নের ওপর ভর করেই আমি বেঁচে আছি। এর জন্য দাদাকে (প্রদীপ সরকার) ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি ওনার অভাব ভীষণভাবে অনুভব করছি। দাদা হয়তো আমাদের আশপাশেই আছেন। আর অবশ্যই মিস্টার চোপড়ার (বিধু বিনোদ) কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ওনাদের দুজনকে আর এ ছবির সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

দিয়া মির্জাও ‘পরিণীতা’ ছবিকে তাঁর জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করে বলেন, অন্য কোনো ছবিতে তিনি এত সম্মান আর ভালোবাসা পাননি।

এই বিশেষ দিনে আরও একবার রুপালী পর্দায় মুক্তি পাবে ‘পরিণীতা’। ২০ বছর পরেও এই ছবির প্রতি দর্শকের ভালোবাসা এখনও অটুট।