বিনোদন

গাজার মানবিক বিপর্যয়: এক ‘মানুষের বানানো সংকট’, নীরবতা ভাঙলেন হলিউড তারকা মার্ক রাফালো

  প্রতিনিধি ২৯ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

গাজার মানবিক বিপর্যয়: এক 'মানুষের বানানো সংকট', নীরবতা ভাঙলেন হলিউড তারকা মার্ক রাফালো

গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়কে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং ইসরায়েলের তৈরি এক ‘মানুষের বানানো বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করে নীরবতা ভেঙেছেন জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালো। ‘হাল্ক’ খ্যাত এই তারকা গাজায় চলমান বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই নির্মমতা বন্ধ করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় রাফালো গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটা কোনো খরা নয়, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও নয়। এটা মানুষের তৈরি এক ভয়াবহ অপরাধ, যার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইসরায়েলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা করছে। রাফালোর এই মন্তব্য সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নির্মমতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।

এই জনপ্রিয় অভিনেতা গাজার মানুষকে অনাহারে মরতে না দেওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আওয়াজ তুলুন, থামবেন না, যতক্ষণ না ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি আসে। শিশু হত্যার অবসান ঘটাতে হবে, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে এই যুদ্ধে নিহতদের ৮০ শতাংশই সাধারণ মানুষ, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রাফালোর এই সাহসী মন্তব্য প্রমাণ করে যে মানবিক সংকট কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো মানবজাতির জন্য একটি বড় সমস্যা।

‘অ্যাভেঞ্জার্স’সহ বহু জনপ্রিয় ছবির এই অভিনেতা সরাসরি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “আপনারা বলেন ক্ষুধার্ত মানুষদের বাঁচাতে চান, যুদ্ধ থামাতে চান—তাহলে কিছু করুন। জার্মানি কিছু করুন, ইউরোপ কিছু করুন, যুক্তরাজ্য কিছু করুন।” তার এই আবেগপূর্ণ আহ্বান বিশ্বনেতাদের নিষ্ক্রিয়তার প্রতি একটি কঠোর সমালোচনা। রাফালো জানতে চান, “আমরা কি শুধু বসে বসে এই হত্যাযজ্ঞ দেখব? এটা পাগলামি, এটা হৃদয়বিদারক।” তার এই প্রশ্ন বিশ্বনেতাদের মানবিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৭০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। পুরো অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, যার ফলে সেখানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ চলছে। মানুষের ওপর এই নির্বিচার আক্রমণ এবং ধ্বংসযজ্ঞের কারণে লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছেন এবং খাদ্য ও পানির অভাবে ভুগছেন। রাফালোর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রায় নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

মার্ক রাফালোর মতো একজন প্রভাবশালী তারকার এই নীরবতা ভাঙা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বাড়াতে সাহায্য করবে। তার কথা লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবে। এটি শুধু একটি মানবিক সংকট নয়, বরং একটি নৈতিক সংকট, যেখানে মানবতা আজ প্রশ্নের মুখে। রাফালোর এই জোরালো কণ্ঠস্বর ভবিষ্যতে আরও অনেককে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যায়।