প্রতিনিধি ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১:১৯ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির ওপর একটি বড় আইনি আঘাত এনেছেন। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের বেশিরভাগই অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন, যা তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমারেখা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কেবলমাত্র কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। আদালত বলেছেন, ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আদালতের ১১ জন বিচারকের একটি প্যানেলে ৭ জন বিচারক ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন, যা রায়ের পক্ষে একটি শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্দেশ করে।
আদালতের এই রায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া জানান, যেখানে তিনি বলেন যে, এই রায় যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতি ‘আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংস হয়ে যাবে’। তিনি আরও বলেন যে, শুল্ক প্রত্যাহার হলে তা দেশের জন্য ‘শতভাগ বিপর্যয়’ হবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেবে। ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া তার নীতিগুলোর প্রতি তার অনড় বিশ্বাস এবং আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার তীব্র অসন্তোষ তুলে ধরে।
তবে, আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করব এবং আদালত ভালোভাবেই জানেন যে (চ্যালেঞ্জ করা হলে) যুক্তরাষ্ট্র জিতবে।’ তার এই মন্তব্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। আপিল আদালত ট্রাম্পকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য সময় দিয়েছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই রায় কার্যকর হবে না, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের জন্য যথেষ্ট সময় দেবে। ওই দিন মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে উঠবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
এই রায়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এই রায়ের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, এবং এই রায় সেই ক্ষতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এই রায় দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কারণ এটি আমদানিকৃত পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেবে, যা দেশীয় উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেবে। এই বিতর্ক আরও কিছুদিন ধরে চলবে, কারণ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতি।
এই ঘটনাটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, কংগ্রেসের ভূমিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গভীর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির ভাগ্য নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।