প্রতিনিধি ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১:৩৩ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জ ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর এই হামলাকে জামায়াতে ইসলামী একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে। এই হামলার ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সংকুচিত হচ্ছে বলেও তারা মনে করে।
শনিবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা আসে। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা, যারা এই হামলাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভিন্নমতের প্রতি কতটা অসহিষ্ণু, এই ঘটনা তার একটি বড় প্রমাণ।
বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা আব্দুল হালিম। এই দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে বিক্ষোভ মিছিলটি একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেকোনো ধরনের উস্কানি এড়িয়ে চলবে। তবে তারা যেকোনো মূল্যে এই বিক্ষোভ সফল করতে বদ্ধপরিকর।
গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন। এই হামলার ফলে আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করবে। একইসঙ্গে তারা বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির জন্যও বার্তা দিচ্ছে। যদিও গণঅধিকার পরিষদ এবং জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন মতাদর্শের দল, এই হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের এই পদক্ষেপ একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি ভবিষ্যতে অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ খুলে দিতে পারে।
বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা গণঅধিকার পরিষদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেবেন এবং সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ধরনের আচরণের নিন্দা জানাবেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের সকল নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি হয় এবং সরকার এই ধরনের দমন-পীড়নমূলক কার্যক্রম থেকে সরে আসে। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের প্রস্তুতি নিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।