২০২৬ সালের হজের জন্য ২৩৪টি নতুন এজেন্সিকে অনুমতি, মোট সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯
২০২৬ সালের পবিত্র হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৩৪টি এজেন্সিকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে মোট অনুমোদিত এজেন্সির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৯টিতে। রবিবার (১০ আগস্ট) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এই নতুন তালিকা প্রকাশ করে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই প্রথম ধাপে ১৫৫টি এজেন্সিকে হজ পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে যোগ হওয়া এই ২৩৪টি এজেন্সিসহ আগামী বছরের হজে বাংলাদেশের হাজীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এই বিশাল সংখ্যক এজেন্সি। তবে এই অনুমোদন কিছু কঠোর শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
শর্তগুলো যা মেনে চলতে হবে
ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত শর্তাবলিতে এজেন্সিগুলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো—যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো এজেন্সি যদি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন (প্রাক-নিবন্ধন নয়) না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়মটি মূলত প্রতিটি এজেন্সির সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য।
এছাড়াও, হজ এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীদের সঙ্গে মক্কা ও মদিনায় প্রদত্ত সেবা ও সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে একটি লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এর ফলে হজযাত্রীরা কী কী সেবা পাবেন, সে সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকবে এবং কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকবে না।
হজ গাইড ও হজযাত্রীর সংখ্যা
একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, প্রতিটি এজেন্সিকে ২০২৬ সালে সৌদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক হজযাত্রী পাঠাতে হবে। এটি মূলত হজ কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং প্রতিটি এজেন্সির দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার একটি উপায়। আরেকটি শর্ত হলো, প্রতি ৪৬ জন হজযাত্রীর জন্য একজন আরবি ভাষায় দক্ষ ও অভিজ্ঞ হজ গাইড নিয়োগ করতে হবে। এই গাইডরা হজযাত্রীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা করবে এবং হজ পালনে তাদের অভিজ্ঞতার মান উন্নত করবে।
অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
ধর্ম মন্ত্রণালয় অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে হজে না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। যদি কোনো এজেন্সি এই ধরনের কোনো অনৈতিক কাজ করে, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে মূলত হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণা রোধ করতে।
এই পদক্ষেপগুলো আগামী বছরের হজ কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং হজযাত্রীবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা যায়। নতুন এজেন্সিগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে হজ সেবার মান এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত হজযাত্রীদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। হজযাত্রীদের এখন থেকে এজেন্সিগুলোর দেওয়া শর্ত এবং সেবার মান ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।