প্রতিনিধি ১৩ অগাস্ট ২০২৫ , ১:০৮ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ
পর্যটন শিল্পকে আরও প্রসারিত করতে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। আগামী দুই বছরের জন্য হিমালয়ের ৯৭টি পর্বতচূড়ায় বিনামূল্যে আরোহণের সুযোগ দিচ্ছে দেশটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ‘অনাবিষ্কৃত’ পর্যটন স্থানগুলোকে মানুষের কাছে পরিচিত করানো।
নেপালের পর্যটন বিভাগ আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই ৯৭টি পর্বতচূড়া নেপালের কর্নালি এবং সুদূর পশ্চিম প্রদেশের মধ্যে অবস্থিত। এই দুটি অঞ্চল নেপালের সবচেয়ে দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত প্রদেশের মধ্যে পড়ে। এখানকার উচ্চতা ৫,৯৭০ মিটার (১৯,৫৯০ ফুট) থেকে ৭,১৩২ মিটার পর্যন্ত।
পর্যটন বিভাগের পরিচালক হিমাল গৌতম জানান, “এই চূড়াগুলোর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য থাকলেও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটক ও পর্বতারোহীদের সংখ্যা খুবই কম। আমরা আশা করছি, এই নতুন পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে।” বিনামূল্যে আরোহণের সুযোগ দিলে পর্বতারোহীরা এই অঞ্চলগুলো অন্বেষণ করতে উৎসাহিত হবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নেপালের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে পর্বতারোহণ থেকে। বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। গত বছর নেপাল পর্বতারোহণ ফি বাবদ ৫.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি এসেছে মাউন্ট এভারেস্ট থেকে। তবে এভারেস্ট আরোহণের খরচ বাড়ছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের পারমিট ফি বেড়ে ১৫,০০০ ডলার (প্রায় ১১,১৭০ পাউন্ড) হবে, যা প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম বৃদ্ধি।
সরকারের এই দ্বিমুখী নীতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক দিকে, এভারেস্টের মতো জনপ্রিয় চূড়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজস্ব আয়ের মূল উৎসকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। বিনামূল্যে আরোহণের সুযোগ দিয়ে নেপাল প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে। এটি শুধু পর্যটন নয়, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
এই উদ্যোগটি নেপালের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। পর্যটকদের কাছে হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য নতুন গন্তব্য তৈরি হবে, যা নেপালের পর্যটন শিল্পকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। একই সাথে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এই সিদ্ধান্ত শুধু পর্বতারোহীদের জন্য নয়, প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চার সন্ধানীদের জন্যও এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে।