এক পরিবারে চারজনের লাশ উদ্ধার, ঋণগ্রস্ততার জের ধরে আত্মহত্যার ধারণা

রাজশাহীর পবা উপজেলার বামুনশিকড় এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটিকে ঋণগ্রস্ততার কারণে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন মনিরুল, তার স্ত্রী মনিরা এবং তাদের দুই সন্তান মিথিলা ও মাহিম। তাদের বয়স এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিবেশীরা কোনো সাড়া না পেয়ে ওই বাড়িতে যান। এরপর ঘরের ভেতরে চারজনের লাশ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মতিহার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশগুলো উদ্ধার করে।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মনিরুল তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন।’

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। ওই নোটে মনিরুল নিজের ঋণগ্রস্ততা এবং আর্থিক অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই আর্থিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওসি আব্দুল মালেক আরও জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশ এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেশীরা জানান, মনিরুল একজন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে সবাই হতবাক।

বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে এলাকার লোকজনের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ। এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।

এই ঘটনা আবারও সমাজে আর্থিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের ভয়াবহ দিকটি তুলে ধরল। ঋণগ্রস্ততা এবং অভাবের কারণে মানুষ কতটা দিশেহারা হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোরও উচিত এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে সহায়তা করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো।

এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমরা পুলিশের পরবর্তী বিবৃতির অপেক্ষায় আছি।