লাইফস্টাইল

খাবারই হতে পারে কোলন ক্যানসারের কারণ: ঝুঁকিপূর্ণ কী কী খাবার খাচ্ছেন, জেনে নিন

  প্রতিনিধি ১৬ অগাস্ট ২০২৫ , ১২:৫৭ পিএম প্রিন্ট সংস্করণ

খাবারই হতে পারে কোলন ক্যানসারের কারণ: ঝুঁকিপূর্ণ কী কী খাবার খাচ্ছেন, জেনে নিন

বর্তমানে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস এর পেছনে একটি বড় কারণ। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান আমরা খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করি, যা সরাসরি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং রান্নার পদ্ধতি মেনে চললে এই মরণব্যাধি থেকে অনেকটাই দূরে থাকা সম্ভব।

 

ভুল পদ্ধতিতে রান্না করা খাবার: ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ

 

মাংস ও মাছ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার সময় হেটেরোসাইক্লিক অ্যামাইনস (HCAs) এবং পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (PAHs) নামক দুটি ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়। বিশেষ করে গ্রিল করা, আগুনে ঝলসে কাবাব বানানো বা অতিরিক্ত তেলে ভাজাভুজি করার সময় এই যৌগগুলো বেশি তৈরি হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তোলে। তাই, মাছ-মাংস ভাজা বা গ্রিল করার পরিবর্তে ঝোল করে বা হালকা সেদ্ধ করে খাওয়া অনেক নিরাপদ।

একইভাবে, উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা বা বেক করা স্টার্চি খাবার, যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ক্র্যাকার বা চিপস-এ অ্যাক্রিলামাইড নামক একটি ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়। এটি শর্করা এবং অ্যাসপারাজিন নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়। কোনো খাবার দু’বারের বেশি ভাজা হলে তাতে অ্যাক্রিলামাইডের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই, শর্করাজাতীয় খাবার উচ্চ তাপমাত্রায় ভেজে খাওয়া এবং দু’বার ভাজা খাবার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত।

 

প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কীটনাশক: নীরব ঘাতক

 

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজলভ্য কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন সসেজ, হ্যাম, বেকন এবং হটডগে নাইট্রেট ও নাইট্রাইটস নামক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় এই প্রিজারভেটিভগুলো নাইট্রোসামাইন গঠন করে, যা সরাসরি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা প্রসেসড ফুড যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

এছাড়াও, ফলমূল এবং শাকসবজিতে প্রায়ই অর্গানোফসফেট জাতীয় কীটনাশক থেকে যায়। এই রাসায়নিক উপাদানটি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, বাজার থেকে আনা যেকোনো ফল বা সবজি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে তবেই খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় এমন ফল বা সবজি কেনা থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

 

অ্যালকোহল: ডিএনএ’র জন্য ক্ষতিকর

 

অতিরিক্ত পরিমাণে অ্যালকোহল পান করলে শরীর তা সঠিকভাবে প্রক্রিয়া করতে পারে না। এর ফলে অ্যাসিটালডিহাইড নামক একটি ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হয়, যা আমাদের ডিএনএ’র ক্ষতি করতে পারে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী জিনকে সক্রিয় করে তোলে। যদিও কিছু খাবারে প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিটালডিহাইড থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অ্যালকোহল থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত অ্যাসিটালডিহাইড স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। তাই, সুস্থ থাকতে অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলসমৃদ্ধ পানীয় পান থেকে বিরত থাকা জরুরি।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও রান্নার পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা কোলন ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে নিজেদের এবং প্রিয়জনদের রক্ষা করতে পারি। সুস্থ জীবনধারাই হতে পারে রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ।