প্রতিবেশী দেশগুলোর চাপে আফগানিস্তানে ফিরছে লাখো শরণার্থী: মানবিক সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আফগান শরণার্থীদের নিজ দেশে গণহারে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আফগানিস্তান বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ঢলের মুখোমুখি। শুধু চলতি বছরেই প্রায় ১৫ লাখের বেশি শরণার্থীকে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য করা হয়েছে, যা দেশটিতে এক নতুন মানবিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।

IOM এর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ছাড়া পাকিস্তান ও ইরান সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ আফগানিস্তানের বর্তমান সংকটকে আরও তীব্র করবে। আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই এই খবর নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের সহকারী মুখপাত্র ফারহান হক জানান, আইওএম আন্তর্জাতিক মহলকে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে, কারণ দেশটি এখন শরণার্থীদের এমন এক বিশাল প্রত্যাবর্তনের মুখোমুখি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তান ও ইরান থেকে প্রায় ৪০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ফেরত আসা শরণার্থীদের অর্ধেকই নারী এবং কিশোরী। এই বিপুল সংখ্যক নারী ও কিশোরীর প্রত্যাবর্তনে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, নির্যাতন এবং অপ্রত্যাশিত নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

তবে আফগানিস্তানের বর্তমান ইমারত সরকার এই সংকটগুলো অস্বীকার করেছে। ইমারত সরকারের সহকারী মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, তাদের সরকার বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিবাহ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেয়েদের তাদের জাতিগত অধিকার দেওয়া হয়েছে এবং আদালতে তাদের মামলাগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ফিতরাত জানান, পাপ-পুণ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় হাজার হাজার নারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, যা তাদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এমনকি সরকার নানা সংকট অস্বীকার করলেও, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান এবং ইরান থেকে শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ফলে সৃষ্ট মানবিক চাপ আফগানিস্তানের দুর্বল অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোতে আরও চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি সহায়তার অভাবে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

আফগানিস্তানের এই মানবিক বিপর্যয় শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। লক্ষ লক্ষ মানুষের অনিচ্ছাকৃত প্রত্যাবর্তন দেশটিতে খাদ্য, আশ্রয় এবং চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আফগান সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে, ভবিষ্যতে এর দীর্ঘমেয়াদী ও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে, আফগানিস্তান আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে, যার প্রভাব কেবল আফগানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।