বাংলাদেশে অপরিবর্তিত স্বর্ণের দাম: ভরিতে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) পর্যন্ত দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক সর্বশেষ সমন্বয়কৃত মূল্যেই এই মূল্যবান ধাতু বিক্রি হচ্ছে, এবং শুক্রবার এই দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
জুলাই মাসে স্বর্ণের দামে কিছুটা ওঠানামা দেখা গিয়েছিল। মাসের প্রথম দিকে দুই দফায় দাম বাড়ার পর শেষ দিকে এসে তা আবার কমে যায়। গত ২৪ জুলাই, বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয়। এই সমন্বয়ের ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি ভরি ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
মূল্য তালিকা: কোন ক্যারেটের দাম কত? বাজুস-এর সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:
- ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকায়।
- ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৮ টাকায়।
- ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকায়।
- সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১২৭ টাকায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভ্যাট ও মজুরি বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন এবং মানের ওপর নির্ভর করে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
পূর্ববর্তী দামের সমন্বয় এর আগে, গত ২৩ জুলাই বাজুস স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে এর দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ২৪ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। একই সময়ে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরদিনই দাম আবার কমে আসে।
রুপার দামও অপরিবর্তিত স্বর্ণের দামের মতোই দেশের বাজারে রুপার দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা প্রায়শই দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা থাকায় দেশের বাজারেও দাম পরিবর্তন হচ্ছে না। ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়ের জন্যই এই স্থিতিশীলতা কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বাজারে নতুন কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই দামেই লেনদেন অব্যাহত থাকবে বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।