বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে বিএনপি: আইআরআই-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক সংস্কারের সম্ভাবনা এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এই বৈঠকে।
বিএনপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেয়। এই দলের নেতৃত্ব দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
আইআরআই-এর প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক স্টিফেন সিমার। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক ম্যাথিউ কার্টার এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ।
বৈঠক শেষে বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. মঈন খান সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা আইআরআই প্রতিনিধি দলের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ‘গণঅভ্যুত্থান’-এর পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। এছাড়া, দেশের রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে বিএনপি কী ধরনের ভূমিকা রাখতে চায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের আগামীর ভাবনা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে আইআরআই-এর প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইআরআই-এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বিএনপির এই বৈঠক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও গতিশীল করবে।
উল্লেখ্য, আইআরআই প্রতিনিধি দলটি শুধু বিএনপির সঙ্গেই নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করছে। গত ১৯ আগস্ট এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আইআরআই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটি বিস্তৃত পরিসরে মতবিনিময় করছে এবং বিভিন্ন দলের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করছে।
এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে একটি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী। বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে, যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, আইআরআই-এর সঙ্গে বিএনপির এই বৈঠক শুধু একটি সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং এটি ছিল দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ, সংস্কার এবং আসন্ন নির্বাচনের পথরেখা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রতিফলন। এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যায়।