রূপালি পর্দার আড়ালের গল্পে রুনা খান
বিনোদন জগতের এক পরিচিত মুখ, মডেল-অভিনেত্রী রুনা খান। ছোটপর্দা থেকে শুরু করে বড়পর্দা— দুই মাধ্যমেই তার অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ‘হালদা’ সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয় তাকে এনে দিয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কারের মতো সম্মাননা। এই পুরস্কারগুলোই প্রমাণ করে, রুনা খান শুধু একজন অভিনেত্রী নন, একজন গুণী শিল্পীও বটে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রুনা খান তার নতুন কাজ এবং মিডিয়াতে নারীর উপস্থাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
এবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় চরিত্রে বড়পর্দায় হাজির হচ্ছেন রুনা খান। আলী জুলফিকার জাহেদীর পরিচালনায় নির্মাণ হচ্ছে ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ নামের নতুন একটি সিনেমা। এই সিনেমায় রুনা খান এমন এক বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে রূপালি পর্দার পেছনের, অর্থাৎ নায়িকাদের জীবনের অজানা গল্পগুলো উঠে আসবে। এই সিনেমার মূল ভাবনা নিয়ে রুনা খান বলেন, “আমরা যারা অভিনয় করি, দর্শকরা শুধু আমাদের পর্দার জীবনটা দেখেন। কিন্তু পর্দার বাইরে আমাদেরও একটা আলাদা জীবন আছে, আছে নানা সুখ-দুঃখের গল্প। ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ মূলত সেই গল্পগুলো নিয়েই তৈরি হচ্ছে।”
এই সিনেমার মাধ্যমে রুনা খান সমাজে নারীর অবস্থান ও তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি চান, একজন নারীকে শুধু মানুষ হিসেবেই দেখা হোক। নাটক, সিনেমা বা সংবাদ— সব ক্ষেত্রেই নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হোক, যেন তারা তাদের স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। তার এই চাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রায়শই দেখা যায়, নারীদেরকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু চরিত্রে বা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়, যা তাদের সামগ্রিক পরিচয়কে খর্ব করে। রুনা খান মনে করেন, মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজে এই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রুনা খানের অভিনয় জীবনে এমন কিছু চরিত্র আছে, যা তাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছে। এমনই একটি চরিত্র হলো ‘নীলপদ্ম’ সিনেমার ‘নীলা’। নীলা একজন যৌনকর্মী। এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই পেশার মানুষদের জীবনের গভীর যন্ত্রণা, অপমান এবং কঠোর বাস্তবতা। এই অভিজ্ঞতা রুনা খানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, “এই চরিত্রটি করতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, আমরা কি একটু বেশি মানবিক হতে পারি না? যৌনকর্মীদের প্রতিও যদি আমরা একটু সহানুভূতিশীল হতাম! সত্যি বলতে, এই চরিত্রটি আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছে, আমাকে আরও বেশি সংবেদনশীল ও মননশীল করেছে।”
রুনা খানের এই কথাগুলো কেবল একজন অভিনেত্রীর মনের কথা নয়, এটি সমাজের প্রতি তার একটি আবেদনও বটে। তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে শুধু বিনোদনই নয়, বরং সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরতে চান এবং মানুষের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটাতে চান। তার নতুন সিনেমা ‘চলচ্চিত্র: দ্য সিনেমা’ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। এই সিনেমাটি শুধু রূপালি পর্দার গল্প শোনাবে না, বরং দর্শকদেরও ভাবনার খোরাক জোগাবে। রুনা খানের মতো একজন শিল্পী যখন এমন সাহসী এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন, তখন তা শুধু তার নিজের অভিনয় জীবনের জন্যই নয়, বরং পুরো শিল্পজগতের জন্যই একটি ইতিবাচক দিক।