সাবধান! আপনার অজান্তেই ফোনের অ্যাপগুলো নজর রাখছে আপনার গতিবিধির উপর

বর্তমানে আমাদের স্মার্টফোন জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ম্যাপে কোনো রেস্টুরেন্ট খোঁজা হোক বা অনলাইনে কেনাকাটার জন্য পণ্যের দাম দেখা—সবকিছুই আমরা করি হাতের মুঠোয় থাকা এই যন্ত্রটি দিয়ে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার অজান্তেই এই অ্যাপগুলো আপনার প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছে? শুধু তাই নয়, এই তথ্য তারা অন্যদের সাথেও শেয়ার করছে।

ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হয়, যেমন সেল টাওয়ার পিং, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস। অনেক অ্যাপ বিনা কারণে আপনার অবস্থান ট্র্যাক করে এবং সেই তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি করে। এই সংবেদনশীল তথ্য একবার হ্যাকারদের হাতে পড়লে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।

কিপার সিকিউরিটির সিইও-এর মতে, ফিটনেস ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে নেভিগেশন পর্যন্ত, প্রতিটি লোকেশন পিং থেকে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। তিনি পরামর্শ দেন, শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে অথবা পরিচিত কারো সাথে আপডেট শেয়ার করার সময় লোকেশন ট্র্যাকিং চালু রাখতে। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে এটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের সবসময় পরীক্ষা করে দেখা উচিত কোন কোন অ্যাপকে আমরা লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের অনুমতি দিয়েছি। আইফোন ব্যবহারকারীরা প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি ট্যাবে গিয়ে লোকেশন সার্ভিস থেকে এটি দেখতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য সেটিংস অপশন থেকে লোকেশন আইকনে ট্যাপ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। এখান থেকে আপনি নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের অনুমতি বাতিল করতে পারেন। আইফোনে, ট্র্যাকিং ট্যাব থেকে অ্যালাউ অ্যাপস টু রিকোয়েস্ট টু ট্র্যাক অপশনটি বন্ধ করে দিলে নতুন কোনো অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার অবস্থান ট্র্যাক করতে পারবে না।

এসব থেকে রক্ষা পেতে আপনার গুগল অ্যাকাউন্টে থাকা লোকেশন হিস্ট্রি মুছে ফেলতে পারেন। এছাড়াও, ব্রাউজিংয়ের সময় ফায়ারফক্স ফোকাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি ব্যবহারকারীর কোনো তথ্য সংরক্ষণ করে না। তাই, স্মার্টফোনের সুরক্ষায় নিজে সচেতন থাকুন এবং আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।