আর্থিক বছর ২০২৫-২৬: ই-রিটার্ন দাখিলে রেকর্ড বৃদ্ধি, প্রথম ১০ দিনে ৯৬ হাজার করদাতার সাড়া

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রথম ১০ দিনেই করদাতা সাড়া মিলেছে চোখে পড়ার মতো। ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন চালুর প্রথম ১০ দিনে ৯৬ হাজার ৯৪৫ জন করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বছরের অনলাইন ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন রিটার্ন দাখিল শুরুর প্রথম ১০ দিনে যেখানে মাত্র ২০,৫২৩ জন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন, সেখানে এ বছর এই সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর পরিশোধের প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে।

 

ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড়

 

এ বছর অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। গত ৩ আগস্ট এনবিআর-এর জারি করা এক বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের করদাতা, শারীরিক অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার আইনি প্রতিনিধি ব্যতীত সকল ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে, ১১ আগস্ট আরও একটি সংশোধনী জারি করে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদেরও এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

যদি কোনো করদাতা অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, তাহলে ৩১ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি পেপার রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই ব্যবস্থা করদাতাদের জন্য একটি বিকল্প পথ খুলে দিয়েছে, যাতে তারা কোনো জটিলতায় না পড়েন।

 

ঘরে বসেই কর পরিশোধ ও সুবিধা লাভ

 

অনলাইনে কর দাখিল প্রক্রিয়াটি এখন আরও সহজ ও সুবিধাজনক। করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ যেকোনো মোবাইল আর্থিক পরিষেবা ব্যবহার করে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারেন। কর জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি স্বীকৃতি স্লিপ (acknowledgement slip) এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ (tax certificate) প্রিন্ট করে নিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি সময় সাশ্রয়ী এবং ঝামেলামুক্ত।

 

এনবিআরের হেল্পলাইন ও সহায়তা ব্যবস্থা

 

করদাতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে, এনবিআর একটি ডেডিকেটেড কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেতে করদাতারা ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের eTax Service অপশনের মাধ্যমেও লিখিতভাবে যেকোনো সমস্যা জানানো ও সমাধান পাওয়া সম্ভব।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে তাদের প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় সঠিকভাবে দেখিয়ে যথাসময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করার আহ্বান জানিয়েছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে করদাতারা আরও সহজে তাদের কর পরিশোধের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।